Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

কাঞ্চনজঙ্ঘা (Spiritually Myth But Ultimately Heavenly Dream)- Part 2

  • হোমাগ্নি ঘোষ
  • April 20, 2020
  • 449 বার পড়া হয়েছে
Download PDF

ইয়েতি না তুষারমানব কে ছিল সেই আগন্তুক??? 
 
তখন ছিল আলো মাখানো পূর্ণিমা, রুপার থালার মতো উজ্জ্বল চাঁদের জোস্নায় ভেসে যাচ্ছে সমস্ত বরফের বিছানা, হিমালয়ের বুকে স্বপ্নের পরীরা নেমে এসেছে, নিস্তব্ধ রাতের অন্তিম প্রহরে যেন থমকে গেছে সময়, বাতাসের গায়ে লক্ষ্য লক্ষ্য তুষারকণা তমসার নিবিড়তায় যেন আরো বেশী পূর্ণতা পেয়েছে।
 
 
ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩ এর দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া Johann Krigeer (Climbed Peak Without Supplemental Oxygen,১৯৮৬) ক্লান্ত অবসাদে বসে পড়লো বরফের বুকে, তার আইস এক্স আজ বিদ্রোহ ঘোষণা করছে, জোহানের মনে পড়ছে তার পরিবারের কথা, এই অপূর্ব জোস্নার রাতে সমস্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন ভেসে যাচ্ছে এক মায়াবী আলোয়, হঠাৎ মনে হল দূরের জমে থাকা বরফের আড়াল থেকে কেউ যেন তার দিকে উঁকি মারল, জোহানের অবাক লাগলো ভেবে এই নিস্তব্ধ রাতে ২৫০০০ ফিটের উপর পাহাড়ের এই মৃত্যুশীতল রজনীতে কে তার সাথে এমন রসিকতা করতে পারে, ভাবার অবকাশ নেই জোহানের, জুতোর সাথে ক্র্যাম্পন বেঁধে আবার এগোনো শুরু করল জোহান।
মনে হল কেউ যেন নীরবে জোহানকে অনুসরণ করছে এই নির্জন পাহাড়ে, ভয়ে আতঙ্কে জোহানের বুক কেঁপে গেল, এর মধ্যেই হঠাৎ জোহান আবিষ্কার করে সে তার বিশ্রামের জায়গায় আইস এক্স টা ফেলে এসেছে, জোহান আবার ফিরে চললেন তার ফেলে আসা আইস এক্স এর পথে, কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখলেন অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য, বরফের মধ্যে যেন কোন দৈত্য নৃত্য করেছে এর তার পায়ের ছাপ একজন সাধারণ মানুষের থেকে প্রায় গুন বড়ো এর আইস এক্স ও অদৃশ্য‌। হিমাঙ্কের প্রায় ৪০ ডিগ্রী নিচেও ঘাম দিচ্ছিলো জোহানের, প্রচন্ড ভয়ে জোহান ছুটে চললো তার গন্তব্যের দিকে, তার মধ্যে এক দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম হল জোহানের আজ যে এসেছিলো সে মানুষের থেকে অনেকটাই বড়ো, অতিমানবিক।
 
 
পর্বতারোহীদের কাছে ইয়েতি এক সম্ভ্রম, বিস্ময়, শিহরণ, রোমাঞ্চ, জীবন্ত কিংবদন্তী। অনেক আঞ্চলিক নাম থাকলেও ইয়েতির খুব পরিচিত নাম Kang Admi - Snow Man যাকে আমরা তুষারমানব বলি। প্রাণীটির ব্যাপারে রহস্যের স্তর আরো ঘনীভূত হয়েছে কারন কেউ কেউ এনাকে স্বচক্ষে দেখার দাবি করলেও ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়েছে শুধু বিশালাকৃতি পায়ের ছাপ। ১৯২১ সালে প্রথমবার ইয়েতির পায়ের ছাপ দেখতে পান Charles Howard Burry (British Mount Everast Expedition Leader), তিনি তার বইয়ে লেখেন যখন তিনি Ihakpa La (২১০০০ft) পার করছিলেন তখন তিনি কিছু অতিমানবিক পদচিহ্ন দেখতে পান।
 
কেউ কেউ বলেন বিশাল বাঁদর, কেউ বলেন গরিলার মতো সাদা লোমে ঢাকা যেমন ১৯৮৬ সালে Reinhold Messner বলে একজন পর্বতারোহী দাবি করেন তিনি ইয়েতির মুখোমুখি হন, তিনি তার বই ( My Quest For The Yeti) লেখেন তিনি একটা ইয়েতি গুলি করে মারেন তার মতে ইয়েতি একটা Endangered Himalayan Bear (Sc Name - Ursus Arcotus Isabellinus) অথবা তিব্বতের নীল ভালুক। কোন কোন বিজ্ঞানী দাবি করেন ইয়েতি প্রাচীন মানবজাতির একটা শাখা যারা প্রচন্ড ঠান্ডায় অনেক উচ্চতায় খুব অল্প সংখ্যক বেঁচে আছে।
 
 
ইয়েতি নিয়ে রহস্যের পর্দা উন্মোচন করা খুব শক্ত কাজ তাইতো বাংলা সাহিত্যের মাঝেও টেনিদার সাথে ইয়েতির দেখা হয়। হয়তো নির্জন পাহাড়ের বুকে বরফের বিছানায় একদিন আমাকেও ডাক দেবে সেই আদিম প্রাচীন তুষারমানব।
হোমাগ্নি ঘোষ
 
প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

পরিচিতি:

লেখক হোমাগ্নি ঘোষ প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র, পেশায় শিক্ষক এবং প্রকৃতিবিদ, কলকাতা বইমেলা ২০২০ এ তার ভ্রমণের উপর বই প্রকাশ পেয়েছে "কমরেড যখন হিমালয়" প্রচুর ট্রেকিং, এক্সপেডিশন করেন। বেশিরভাগ সময় তার ঠিকানা পাহাড় ও জঙ্গল।
শেয়ার করুনঃ