Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

ঈশ্বরের নিজের দেশ :কেরালা (সপ্তম পর্ব : ভেম্বানাদ কয়াল ও ফোর্ট কোচি যাত্রা)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • June 21, 2020
  • 81 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চতুর্থ পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

পঞ্চম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

ষষ্ঠ পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম এর্নাকুলাম বোট জেটি l সামনেই একটা খুব সুন্দর নকশা করো কেরালার স্টাইলে তৈরী টিকিট ঘর l আমরা প্রথমেই টিকিট কাটলাম l ফোর্ট কোচি যাওয়ার জন্য টিকিট মূল্য আট টাকা l আমি ভেবেছিলাম না জানি কত টাকা নেবে l কিন্তু আট টাকা দেখে অবাক হলাম l টিকিট কেটে বাইরে বেরিয়ে এসেছে বিশাল সমুদ্র দেখে বিস্ময়ের শেষ নেই l তার চেয়েও বেশি এক্সসাইটেড হচ্ছিলাম এটা ভেবে যে এই সমুদ্রের ওপর দিয়ে বোটে বা লঞ্চে চড়ে যাবো l

প্রথমে এটাকে আরব সাগর ভেবে ভুল করলাম l পরক্ষনেই গুগুল ম্যাপ দেখলাম l তখন ঘের ভাঙলো l দেখলাম এটা ভেম্বানাদ কয়াল বা উপহ্রদ l কিন্তু তার বিস্তার আর ঢেউ দেখে বোঝার জো নেই l চোখ কুলোয় না l যাইহোক বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর এক লঞ্চ এসে ভিড়লো ঘাটে l সবাই একে একে করে সেটার ওপর উঠে পড়লাম l খুব ভীড় ছিলোনা l গিয়ে জানালার ধারে সিটে বসলাম l মিনিট পাঁচেকের মধ্যে লঞ্চ ছেড়ে দিলো l যখন জলের ওপর ভেসে ভেসে চলেছি কেমন যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি হচ্ছিলো তা ভাষায় বোঝাতে পারবো নাl

এর আগে বহুবার আমি নৌকায় চরেছি বিভিন্ন জায়গায়l বিভিন্ন জলাধারে নৌকাবিহার করেছিl কিন্তু এই সাগরের মত বিস্তৃত ভেম্বনাদ কয়াল লঞ্চে চড়ে মনে হচ্ছিল যেন জাহাজে করে সাত সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিl যদিও ব্যাপারটা শুনে অনেকের হাসি পেতে পারে কেননা অনেকেই বড় বড় সাগর উপসাগরে জাহাজ বা খুঁজে করে ঘুরে বেড়িয়েছেনl কিন্তু আমার কাছে এই ছোটখাটো ব্যাপারটাই যেন এক বিরাট প্রাপ্তি বলে মনে হচ্ছিলl এত এক্সাইটেড হয়েছিলাম এত আনন্দিত হয়েছিলাম যে মোবাইলে নিজের সেলফি তুলব না জানালা দিয়ে সমুদ্রের নেয় এই বিশাল উপহ্রদ এর ছবি এবং দূরে দেখা যাওয়া জাহাজ বোট ইত্যাদি ছবি তুলব কোনটাই ঠিক করে উঠতে পারছিলাম নাl জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখছি লঞ্চের গায়ে লেগে জল গুলো এমন ভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে যা দেখে মনে পুলক বর্ষণ করছে অহরহl

ভেম্বানাদ উপহ্রদ হলো ভারতের বৃহত্তম কয়াল l দক্ষিণ পশ্চিম ভারতের মালাবার উপকূলে এই দীর্ঘতম হ্রদ টি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিতl যেমন এটা আলাপুঝাতে ভেম্বানাদু নামে পরিচিতl কুট্টানাদে এটার নাম পুন্নামাদা হ্রদ আর কোচিতে এর নাম কোচি হ্রদ l প্রায় ২১১৪ স্কয়ার কিমি জায়গা জুড়ে এই কয়াল l প্রায় ৯৬ কিমি দীর্ঘ l নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে এর বিস্তৃতি বিশাল l কিন্তু উত্তর দিকে এটি নদীর মতো চওড়া l তবে এর্নাকুলাম বোট জেটি থেকে ফোর্ট কোচি যাওয়ার রুট টা অনেক চওড়া l অনেক ছোট ছোট দ্বীপ এই কয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে l যেমন ভাইপিন, mulavukad, vallarpadam, willingdon Island প্রভৃতি l তবে এগুলো সবই কোচি হ্রদের অংশের দিকেই অবস্থিত l willingdong ও Vallarpadam দ্বীপের চারদিকে কোচি বন্দর গড়ে উঠেছে l

ভূগোলে পড়া এই ভেম্বানাদ হ্রদের বুকে ভেসে চলেছি l দুই দিকে কত রকমের ছোট-বড় রংবেরঙের জাহাজ বা ক্রুজ দেখতে পেলাম তার ঠিক নেই l ছবিও তুললাম অনেক গুলো l একটা বড় জাহাজ থেকে দেখছি পাইপ দিয়ে দ্রুত বেগে জল নির্গত হচ্ছে l দূরে লোহা দিয়ে তৈরি বড় বড় টাওয়ার বা কারেন্ট এর থাম খুঁটির মত কি সব দেখতে পেলাম কিন্তু সেসব সম্পর্কে জানতেও সেভাবে পারিনি এবং বুঝতেও পারিনি ওগুলো কি l কি সব কান্ড কারখানা চলে ওখানে l বিস্ময়ই থেকে গেলো l এক এক বার আবার মনে হচ্ছে যদি লঞ্চ এই মাঝ দরিয়ায় ডুবে যায়? জানিনা জলযানে উঠলে আমার মতো আর কারো এরকম ভাবনা চিন্তা হয় কিনা l কিন্তু আমার মাথায় এসে যায় এসব অদ্ভুত ভাবনা চিন্তা l যাইহোক আরও কিছুক্ষন পর দূরে একটা দ্বীপ ক্রমশ দৃশ্যে প্রকট হতে লাগলো l তারপর বুঝলাম ওখানেই আমরা যাচ্ছি l শুধু নারকেল গাছ আর ভেসে থাকা নৌকা, বোট দেখতে পাচ্ছি l দূর থেকেই দারুন সুন্দর দৃশ্য সেই দ্বীপের l কিছুক্ষন পর ধীরে ধীরে একটা জেটিতে গিয়ে লঞ্চ থামলো l তারপর নেমে পড়লাম l অনেকেই অপেক্ষা করছে ওটাতে চড়ে ফিরবে বলে l নেমে যাওয়ার পর একটা সরু গলি মতো রাস্তা l সেই রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম l

পরের পর্ব ক্রমশ.....

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ