Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

ঈশ্বরের নিজের দেশ : কেরালা (ষষ্ঠ পর্ব :আরব সাগরের রানী, কোচি)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • June 12, 2020
  • 114 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চতুর্থ পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

পঞ্চম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

কোঝিকোড় স্টেশনে বসে বসে মোবাইলে সার্চ করে দেখলাম কোন কোন ট্রেন কটায় এর্নাকুলাম যাবে l খুব কমই ট্রেন আছে l জেনারেল কামরার টিকিট কাটলাম l যা হবে দেখা যাবে ভেবে রাত এগারো টা বা তার পরে কন্যাকুমারী যাওয়ার একটা ট্রেনে উঠে পড়লাম l কোনোক্রমে উঠে দেখি ভিড়ে পা বাড়ানোর জায়গা নেই l বহু লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে l নীচে ওপরে সবাই ঠেলাঠেলি করে বসে আছে l বাথরুমের কাছেও লোক l কোনোক্রমে একটু ভেতরে ঢুকে দেখি ওপরে ব্যাগ রাখার একটা জায়গায় কোনো লোক নেই কিন্তু ব্যাগ পত্রে ঠাসা l উঠে পড়লাম দুজনে l ব্যাগ গুলোকে এক জায়গায় উঁচু করে একটার ওপর একটা রেখে একটু খানি জায়গা বের করে বসলাম l কিন্তু ওই সিটে কোনো নরম জিনিস বা গোদি থাকেনা l লোহার l তাই পেছনে লাগছিলো l তাছাড়া বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে রাখতেও পারছিনা l একবার ওপাশের সিটে পা ঠেক দিচ্ছি l একটু আরাম হচ্ছে l আবার একই ব্যাপার হচ্ছে l ভেবে চিনতে ব্যাগ থেকে গামছা বের করে দুই দিকের সিটের মাঝের ফাঁকা জায়গায় এমন ভাবে গামছা বেঁধে দিলাম যাতে পা রাখা যায় l তা দেখে অনেকেই মুচকি হাসতে লাগলো l ওই ভাবে বসে বসে যাচ্ছি l জুবুথুবু হয়ে কতক্ষন আর বসি l পেছনেও লাগছে l এতো ব্যাগ যে ঠিক মতো ঠেস দিয়ে বসতেও পারছিনা l কোমর,,পিঠ যন্ত্রনা করছে l ঘুমে চোখ ঢুলছে l কিন্তু ঘুমানোর উপায় নেই l আর মালয়ালম ভাষায় চারদিকে এতো কথার স্তুপ জমা হচ্ছে যে সেসব ডিঙিয়ে এক মনে চোখের পাতা এক করতে পারছিনা l কিছুই বুঝতে পারছিনা তাদের কথা l শুনে শুনে কান ঝালাপালা l বিরক্তও হচ্ছিলাম l প্রায় পাঁচ /ছয় ঘন্টার পথ l অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে ভোরে নামলাম এর্নাকুলাম নর্থ স্টেশনে l এই ট্রেনটা এর্নাকুলাম সাউথ যাবেনা বা আমরা এর্নাকুলাম নর্থ - সাউথ আছে বলে জানতাম না যেকোনো একটা কারণে এর্নাকুলাম নর্থে নেমে গিয়েছিলাম l তারপর আবার অনেক্ষন অপেক্ষা করে আবার একটা ট্রেন ধরে মাত্র দশ পনেরো মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম এর্নাকুলাম সাউথ l পৌঁছে গেলাম আরব সাগরের রানী কোচি l

কোচি বা কোচিন দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের কেরালা অঙ্গরাজ্যের একটি বন্দর শহর। এটি এরনাকুলম জেলার একটি শহর ও পৌর কর্পোরেশনাধীন এলাকা। কেরালা রাজ্যের সবচেয়ে বড় এই শহরটি মালাবার উপকূলে আরব সাগরের তীরে অবিস্থিত। শহরটি একটি সরু ভূখণ্ডের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। এটি দৈর্ঘ্যে ১৯ কিলোমিটার এবং প্রস্থে বহুস্থানে ১ মাইলেরও কম প্রশস্ত। এটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্র প্রণালী দ্বারা এবং পশ্চিম ঘাট থেকে আগত নদীসমূহের মোহনা দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বর্ষাকালে এই খাঁড়িগুলিতে নৌচালনা করা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে এগুলির গভীরতা ২ ফুটেরও কম হয়ে যায়, ফলে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এগুলিতে কোন নৌপরিবহন সম্ভব হয় না। বড় জাহাজগুলিকে শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে নোঙর ফেলতে হয়। কোচি মালাবার উপকূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। এটি কেরালা রাজ্যের নারকেল তেল উৎপাদনের কেন্দ্র। নারকেল থেকে প্রস্তুত বিভিন্ন দ্রব্য এখানকার প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। চাল বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। কোচিতে জাহাজ নির্মাণ, করাত কল, মাছ ধরা এবং নারকেলের ছোবড়ার পাটি বানানো এখানকার প্রধান শিল্প। এখানে রয়েছে সরকারী জাহাজ নির্মাণ কারখানা ( কোচিন শিপ ইয়ার্ড )। কেন্দ্রীয় মৎস্য শিকার কেন্দ্র এবং মৎস্য গবেষণাগার কোচিনে অবস্থিত। এছাড়া কোচিতে একটি তৈল শোধনাগার আছে। এই শহরে আঞ্চলিক কাঁচামাল সরবরাহের উপর ভিত্তি করে রপ্তানীযোগ্য নারিকেল তেল, দড়ি ও মশলা শিল্প গড়ে উঠেছে l

পোর্তুগিজেরা ১৫০০ সালে কোচি দখল করে। এর দুই বছর পরে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা এখানে একটি কারখানা স্থাপন করেন। ১৫০৩ সালে পর্তুগিজের এখানে ভারতে ইউরোপীয়দের প্রথম দুর্গ নির্মাণ করে। ১৫৭৭ সালে জেসুইটরা কোচিতে ভারতীয় অক্ষরে প্রথম ছাপা বই প্রকাশ করে। ১৬৩৪ সালে ইংরেজরা এখানে আসে, কিন্তু ওলন্দাজেরা তাদেরকে বিতাড়িত করে। ওলন্দাজেরা ১৬৬৩ সালে কোচিন দখল করে এবং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। ব্রিটিশরা ভারত বিজয়ের সময় শহরটি দখল করলেও ওলন্দাজদেরকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত এটি শাসন করতে দেয়। ঐ বছর শহরটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে আসে। ১৯৩৬ সালে কোচিন সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে আসে এবং একটি প্রধান বন্দরের মর্যাদা পায়। ১৯৪৭ সালে কোচি স্বাধীন ভারতের অংশে পরিণত হয়।

কোচি শহরে অটো, ট্যাক্সি, বাস, মেট্রো সব চলে l তাই যাতায়াত এর অসুবিধা নেই l দেখার মতো কয়েকটা সুন্দর পার্ক, স্টেডিয়াম, মল (লুলু মল ) ইত্যাদি আছে l

তখন সকাল l স্টেশনের সামনে সরকারি অটো তে টিকিট কেটে কোচির একটা জায়গায় পৌঁছলাম l একটা বাস স্টপে আমাদের নামিয়ে দিয়ে অটো ওয়ালা বলল আর কিছুটা গেলেই অনেক হোটেল আছে l আমরা হেঁটে হেঁটে প্রথমেই গেলাম কেরালার ভ্রমণ সহায়তা অফিসে l অবশ্য গুগুল ম্যাপ সাহায্য করেছে এব্যাপারে l গিয়ে একজনের সাথে কথা বললাম ইংরেজিতে l সারমর্ম টা এরকম যে কিছুটা হেঁটে গেলেই অনেক হোটেল আছে l

ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে হেঁটেই সামনে জেটি ঘাট l ওখান থেকে ফোর্ট কোচি ঘুরতে হবে সারাদিন l সন্ধ্যায় ফিরে বাসে বা মেট্রো করে লুলু মল ও কোচি শহর l সকালে বাস স্ট্যান্ডে সরকারি বাস ধরে মুন্নার l উনার পরামর্শ মতো আমরা একটা চার্চ এর কাছ দিয়ে রাস্তা ভেঙে চললাম হোটেলের সন্ধানে l এতো সকালে বাজার শহর ফাঁকা l হোটেল সব বন্ধ l কলিং বেল বাজালেও কেউ সাড়া শব্দ করছে না l অবশেষে একটা হোটেল পেলাম l ভাড়া খুব বেশি নয় l তাই রুম খুব একটা হাই ফাই ও নয় l আলাদা সরু সরু দুটি বিছানা দুদিকে l আমাদের এতেই যথেষ্ট l এতো ফ্যাসিলিটি আমার না হলেও চলে l কারণ আমি বাড়িতে নিশ্চয় রাজার হালে থাকিনা l সাধারণ সব কিছুই l তাই বিশেষ অসুবিধা হলো না l ব্যাগ রেখে স্নান করে বেরিয়ে পড়লাম l ততক্ষনে দোকান পাট খুলেছে l একটা দোকানে কেরালার এক ধরণের খাবার খেয়ে ব্রেকফাস্ট এর কাজ সারলাম l হেঁটে হেঁটেই চললাম ফেরি ঘাটl 

পরের পর্ব ক্রমশঃ.......

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ