Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

ঈশ্বরের নিজের দেশ : কেরালা (পঞ্চম পর্ব : সুইট মিট স্ট্রিট, কোঝিকোড়)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • June 8, 2020
  • 111 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চতুর্থ পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

কালিকট বন্দরের কাছে বসে বসে ভাস্কো ডা গামার কথা ভাবছিলাম এক মনে l বন্ধুর ঠেলা খেয়ে সম্বিত ফিরলো l নাহ অনেক দেরি হয়ে গেলো l এবার উঠতে হবে l তখন রাত আটটার বেশি বেজে গেছেl তাই আর দেরি না করে আলো-আঁধারি কালিকট বন্দর আর কালিকট সমুদ্র সৈকত কে বিদায় জানিয়ে ফিরলামl আধ ঘন্টার মতো হেঁটে হেঁটে পৌঁছলাম কোঝিকোড় এর বিখ্যাত সুইট মিট স্ট্রিটে l

রাতের অন্ধকারে বিচিত্র আলোতে সেজে উঠেছে কোঝিকোড় এর রাস্তা গুলিl সুইট মিট স্ট্রিটে লোক যেন ধরে নাl দোকানে দোকানে মানুষের কেনাকাটার ভিড়l কিনে এই সুইটমিট স্ট্রিটে l রাস্তার উপরে জ্বলছে আকর্ষণীয় বড় বড় আলোl বিভিন্ন ধরনের মশলা পাওয়ার আদর্শ জায়গা হল এই সুইটমিট স্ট্রীটl এখানকার হালুয়া জগৎবিখ্যাতl বিভিন্ন জিনিসের বিভিন্ন ফ্লেভারের হালুয়া দোকানগুলি যেকোনো পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাধ্যl রাস্তার দুই ধারে সেই দোকানগুলিতে হালুয়া গুলো রং-বেরংয়ের সাজানো l

পথে হাঁটতে হাঁটতে চোখ গেলে মনে হবে যাই গিয়ে কিনে খাইl এই হালুয়া গুলোর জন্যই এই রাস্তার নাম হয়েছে সুইট মিট স্ট্রিটl স্থানীয় লোকেরা এই রাস্তাটি কে বলে মিট্টায় থেরেভ্যু l অনেক অনেক দিন আগে যখন এই কালিকট এর শাসক কিছু গুজরাটি হালুয়া বানানো কারিগর কে এনে এখানে হালুয়া তৈরি করাতেন তখন থেকেই এই প্রাসাদের দেওয়াল ধরে এই দোকানগুলি আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছিলl আর এখন সেই হালুয়ায় কোঝিকোড় এর মূল আকর্ষণীয় ব্যাপারl এছাড়াও এখানে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে পোশাক থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিস শপিং করার জন্য লোকেরা ভিড় জমায়l

সুইট মিট স্ট্রীট ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে আমরা ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়লামl খাওয়ার জন্য বিভিন্ন খাবারের দোকানে গিয়ে কেরালার বিভিন্ন ধরনের খাবার দেখতে পেলাম ঠিকই কিন্তু বাঙালি খাবার একটি দোকানেও পেলাম নাl বন্ধু বলল এখানে কোথাও ভাত পাওয়া যাবে নাl এমনকি রুটি পাওয়া খুব মুশকিল যা পাওয়া যাবে কেবলমাত্র কেরালার কিছু স্থানীয় খাবার l কি করা যায় ভেবে চিন্তে ঠিক করলাম কোথাও বিরিয়ানি পাওয়া যায় কিনা দেখতে হবেl আমাকে অবশ্য কেউ যেন একটা বলেছিল কোজিকোড বিরিয়ানি পাওয়া যায় এবং সেই বিরিয়ানি খুবই বিখ্যাতl দু-একটা দোকানে জিজ্ঞেস করলামl দোকানিরা হিন্দি ভালো বোঝে নাl বিরিয়ানি নামটা শুনে তারা আমাদের একটা রেস্টুরেন্টের ঠিকানা দিলl রেস্টুরেন্টের নাম প্যারাগন রেস্টুরেন্টl বেশ বড় ঝাঁ-চকচকে রেস্টুরেন্টl বহু মানুষের ভিড়l সেখানে খেতে হলে অপেক্ষা তো করতেই হবে খুব সহজে লাইন পাওয়া মুশকিলl যাইহোক কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমরা বিরিয়ানি অর্ডার দিলামl বিরিয়ানির দাম কত নিয়েছিল আমার ঠিক এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না তবে দামটা আমাদের এখানে তুলনায় অনেকটাই বেশিl কিন্তু সেই বিরিয়ানি আমাদের এখানকার কলকাতা বিরিয়ানি বা হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি মত কিন্তু মোটেও নয়l অনেকটাই আলাদা স্বাদ এবং আলাদা তার রেসিপিl বিরিয়ানিতে পেঁয়াজ এবং কাঁচা লঙ্কার পরিমাণ অনেক বেশিl তাই ঝালের সীমা-পরিসীমা ছিলনাl তবে টেস্টের কথা যদি বলতে হয় তাহলে এক নাম্বার বিরিয়ানি বলা যেতে পারেl দারুন খেতে এই ভিন্নস্বাদের কোঝিকোড়ের বিখ্যাত এই বিরিয়ানি l যাক খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে আমরা কোঝকোড স্টেশনের দিকে রওনা হলাম l রাতে ট্রেন আছে এর্নাকুলাম যাওয়ার l

পরের পর্ব ক্রমশ

 

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ