Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

ঈশ্বরের নিজের দেশ : কেরালা (তৃতীয় পর্ব : মানিনচিরা স্কয়ার কমপ্লেক্স l কোঝিকোড়, কেরালা)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • May 31, 2020
  • 100 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

বেঘোরে ঘুমোচ্ছিলাম l স্বপ্নও হয়তো দেখছিলাম l বন্ধু নাড়া দিয়ে ডেকে তুললো l ঘুম ভেঙে গেলো l চেয়ে দেখি বন্ধু বলছে ওঠো ভাত খাবেl বিছানায় উঠে বসে দেখি আরো পাঁচ ছয় জন রুমে বসে আছে l সবাই অপরিচিত l সবাই কাজে গিয়েছিলো l দুপুরে খেতে এসেছে l তাদের মধ্যে বন্ধুর এক দাদা একটা ভাগ্নে আরো ওদেরই আসে পাশের গ্রামের কয়েকজন l প্রথম প্রথম কথা বার্তা হয়নি l পরে সবার সাথে আলাপ গল্প হলো l বাথরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এসে বসলাম l ভাত বেড়ে রেডি করে করে একে একে নিয়ে এলো আসারুল l আমার বন্ধুর নাম আসারুল l যেমনই হোক তারা কুটুম ভেবেছে তাই নানান রকম তরিতরকারি রান্না করেছে নিজে l মাংস কষা, মাংস ভাজা আরো কত কি l সবাই মিলে গোল করে বসে খেলাম l এতো অপরিচিতের সাথে খেতে অবশ্য একটু লজ্জা বোধ করছিলো l খেতে খেতে নানা রকম গল্প গুজব l আমি যে মূলত ঘুরতে এসেছি তা জেনে সবাই একটু অবাক হলো l কি ঘোরার নেশা রে বাবা l ওরা বছরের পর বছর কেরালায় আছে l ঘুরতে ওদের সেভাবে ইচ্ছে করে না l আর ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই l নিয়মিত ডিউটি l রবিবার ওদের ছুটি l সেদিন বিকেলে মাঝে সাঝে বড় জোর কোঝিকোড় সমুদ্র সৈকত ঘুরতে যায় ওরা l বন্ধুও তাই l কেরালায় এতো দিন থাকলেও ওই আসে পাশে কিছু জায়গা ছাড়া সেভাবে কিছু জানেনা l খেতে খেতে ওর দাদা বললো কোথায় কোথায় ঘুরবে তাহলে? আমি বললাম দেখা যাক, কোচি, মুন্নার, কোভালাম ইত্যাদি l শুনে তাদের চোখে মুখে বিস্ময়ের ছাপ l জায়গা গুলোর নাম হয়তো শুনেছে বা কেউ কেউ তাও শুনেনি l আমার বন্ধুও তাই l আমরা দুজন কিভাবে জায়গা গুলো ঘুরবো ভেবে তাদের সংশয়ের শেষ নেই l হালকা ভয়ের ছাপও স্পষ্ট মুখে l আমি বললাম আমি এমনিতে ঘোরাঘুরি করি l সুতরাং তোমরা চাপ নিও না l দুজনে ঠিক ঘুরে নিতে পারবো l একজন বললো কবে থেকে তবে শুরু করবে? আমি বললাম আমার হাতে সময় খুব কম l বারো তারিখ আমার ফেরার টিকিট l তাই 11 ফেব্রুয়ারী এর আগে যা ঘোরার ঘুরবো l তাই সময় নষ্ট না করেই আজ থেকেই বেরিয়ে যাবো l দাদা বললো ' আজই? ' বললাম হ্যাঁ l আজ বিকেলে বেরিয়ে যাবো আবার এই মেসে ফিরে আসবো এগারো তারিখ l বন্ধুর দিকে তাকাতে ও সায় দিলো l তাকে জিজ্ঞাসা করলাম 'তোমার কোনো অসুবিধা নেই তো? ' সে হেসে বললো কি আর অসুবিধা? কোনো সমস্যা নেই l বেরিয়ে পড়ি আজই l একদম ফিরে তোমাকে ট্রেনে উঠিয়ে পরের দিন থেকে ডিউটি জয়েন করবো l ব্যাস, খেতে খেতেই প্ল্যান পাকা করে ফেললাম l আজ বিকেলে কোঝিকোড় ঘুরে রাতের কোনো ট্রেন ধরে সোজা এর্নাকুলাম, কোচি l তারপর ভাবা যাবে l খেয়ে উঠেই আর বিশ্রাম না নিয়েই ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম l তারপর দুজন আল্লার নাম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম l রাস্তার ধারে বাস স্টপ l একটু দাঁড়ানোর পরই বাস পেয়ে গেলাম l বাসে বেশ ভিড় l দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আধ ঘন্টা পর নামলাম l নেমে প্রথমেই কাছে পড়লো মানানচিরা স্কয়ার ও পার্ক l কোনো টিকিট লাগেনা l ঢুকে পড়লাম l

মানব তৈরী কৃত্রিম এক পরিষ্কার জলের পুকুর হলো মানানচিরা l এটি কেরালার কোঝিকোড় শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত l 3.49 একর জায়গা নিয়ে এই আয়তকার জলাধার টি তৈরী হয়েছে l

চতুর্দশ শতাব্দীতে কোঝিকোড় এর শাসক zamorin Mana Vikrama স্নানের উদ্দেশ্যে এই জলাশয়টি নির্মাণ করেনl কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে কালিকট মিউনিসিপাল কাউন্সিলার ঘোষণা করে যে এই পুকুরটি কেবলমাত্র পানীয় জলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং এখানে স্নান করা কাপড় চোপড় ধোয়া বা অন্যান্য কাজগুলো কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করা হয়l এই মানানচিরা পুকুরটি কোঝিকোড় শহরের পানীয় জল সরবরাহ করে l কিন্তু বর্তমানে এই পুকুরের জল বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে গেছে যেমন পৌরসভার নোংরা জল এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নোংরা এসে পড়ে l সামনেই টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি থেকেও এর জল দূষিত হয়ে গেছে l

মানানচিরা পুকুরের দুদিকে প্রধান রাস্তা আর বাকি দুদিকে গড়ে উঠেছে একটি খুব সুন্দর ও বড় পার্ক l 1994 সালে এটিকে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়l আগে মানানচিরা স্কয়ার কে লোকেরা মানানচিরা ময়দানাম নামেই চিনতো l এটা ফুটবল খেলার একটা ভালো পরিচিত মাঠ ছিল l অনেক ফুটবল টুর্নামেন্ট এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে l এছাড়াও এখানে মানানচিরা আয়াপ্পান ভিলাক্কু নামে একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো প্রতি বছর l কোঝিকোড় জেলা কালেক্টর মি. অমিতাভ কান্ট এর শাসনকালে এই গ্রাউন্ড এর নাম হয় মানানচিরা স্কয়ার কমপ্লেক্স l তার পর থেকে এখানে আর কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়না l তার পরিবর্তে এই গ্রাউন্ড এর পাশেই একটা পুকুর ভরাট করে মাঠ তৈরী হয় যার নাম মুথালাকুলাম ময়দানাম l সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় l বর্তমানে বিকেলে লোকেরা এখানে এসে খেলাধুলা, আনন্দ বিনোদন করে সময় কাটায় l

পার্কে আছে বহু পাথরের মূর্তিl জীব জন্তুর মূর্তিl 250 টা সুন্দর ল্যাম্পপোস্ট l অনেক প্রাচীন গাছ পালাও আছে l সবুজ সুন্দর গাছ আর ফুলের সমারোহে দারুন এক জায়গা l বসার জন্য আছে বহু জায়গা l কেরালার সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন মূর্তির মাধ্যমে l বাচ্চাদের জন্য আছে বিভিন্ন মূর্তির মাধ্যমে গল্পের অবতারণা l বিকেল টা কিভাবে এখানে কেটে যাবে বোঝায় যাবে না l সাধারণএর অবাধ প্রবেশ l কোনো টিকিট লাগেনা l অথচ একটা জিনিস দেখে আশ্চর্য হতে হয় চারদিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিক মুক্ত l আমরা আধ ঘন্টা ধরে হেঁটে হেঁটে ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম l ছবি তুললাম l তারপর উল্টো দিকের একটা গেট দিয়ে বেরিয়ে গেলাম l এখন যাবো কোঝিকোড় বীচ l

পরের পর্ব ক্রমশ...

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ