Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

ঈশ্বরের নিজের দেশ : কেরালা (প্রথম পর্ব : রেলগাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি মারে দুনিয়া)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • May 18, 2020
  • 180 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আর এক নতুন ভ্রমণ সিরিজ কেরালা নিয়ে l কেরালা যাওয়ার অনেক ইচ্ছে ছিল l আমার এক খুব ভালো বন্ধু কেরালায় কর্মরত l ও বার বার ডাকে l কিন্তু সময় পাইনা l একবার ও বাড়ী এলো l আমায় বললো ওর সাথে যেন আমি কেরালা যাই l অনেক ভেবে চিন্তে রাজি হয়ে গেলাম l ডেট ঠিক হলো ফেব্রুয়ারীর ৪ তারিখ l রিজারভেশন ছিল হাওড়া - চেন্নাই করমণ্ডল সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস এ l বিকেল ৪:৩০ নাগাদ খড়্গপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরলাম l নিজের সিটে গিয়ে বসলাম l বন্ধুর সিট্ লোয়ার এ l আমার জানালার ধারে লোয়ার l আর কি চাই? আমি গন্তব্য যত টা পছন্দ করি তার থেকে বেশি পছন্দ করি গন্তব্যে যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য আর দৃশ্যাবলী l আর ট্রেন জার্নি আমার খুব ভালো লাগে আর সেটা যদি লং ট্রেন জার্নি হয় তাহলে তো কথাই নেই l বন্ধু আমার জন্য নিয়ে এসেছিলো হরেক রকম খাবার l দীর্ঘ ট্রেন জার্নিতে খাওয়া দাওয়া একটা ব্যাপার বটে l আমার ট্রেনে খেতে অত্যন্ত ভালো লাগে তবে ট্রেনের ক্যান্টিন এর খাবার মোটেও না l

আমি সঙ্গে করে বাড়িতে বানানো বিভিন্ন খাবার নিয়ে গিয়েছি l আবার বন্ধু বর্ধমানের বিভিন্ন বিখ্যাত মিষ্টি আরো কত কি নিয়ে এসেছে l সাথে ফলমূলের যেন দোকান l আমরা ঠিক করেই নিয়েছিলাম যে বাড়ির খাবারই খাবো চেন্নাই পর্যন্ত l ট্রেনের খাবার আমার একদম রুচে না l অথচ দাম বেশি l দুপুরে খেয়েই গিয়েছিলাম l তাই বিকেলে কিছু মিষ্টি খেলাম l রাতে চিকেন ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম একটা পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট ঢাকা দিয়ে l ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে এদিকে তখনো শীতের দাপট l জানালা একেবারে বন্ধ l রাতে ঘুম মোটামুটি হলো l মাঝখানে রাতের বেলা বিশাখাপট্টনামে এক নেমেছিলাম l সেদিন বাইরের জগৎ আর সেভাবে দেখা হয়নি l সকাল হতেই মনে পুলক জাগলো l আজ সারাদিন জানালা দিয়ে বাইরের জগতে উঁকি দিতে দিতে ছুটবো l কত রাজ্য, কত জনপদ কত নদী পাহাড় দেখতে দেখতে যাবো l ভেবেই মনটা নেচে উঠলো l এরকম অনুভূতি আর কারো হয় কিনা জানিনা কিন্তু আমার হয় l

সকালে যখন ঘুম ভাঙলো তখন নদীর ব্রিজ দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সেই প্ৰিয় শব্দ টা হচ্ছে l ধড়মড়িয়ে উঠে পকেট থেকে মোবাইলে বের করে কয়েকটা ছবি কোনোক্রমে তুলে নিলাম l তারপর সকালের শান্ত নদীর দিকে তাকিয়ে থাকলাম l কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই সেই ধ্যাক ধ্যাক শব্দ আর আর নদী দুইই উধাও হয়ে গেলো l সকাল দশটা নাগাদ বিজয়ওয়াড়া স্টেশনে পৌঁছলাম l স্টেশনের সামনেই ছোট ছোট গোম্বুজাকৃতি পাহাড় দেখা যাচ্ছিলো l খুব সুন্দর একটা জায়গা l আরো প্রায় আধ ঘন্টা পরে গোদাবরী নদীর সাথে দেখা l বিরাট তার বিস্তার l দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী l একে দক্ষিণ ভারতের গঙ্গাও বলা হয় l গঙ্গার মতোই পবিত্র নদী এই গোদাবরী l ভূগোলে পড়া জিনিস যখন চোখের সামনে দেখি এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় মনের ভেতরে l যাইহোক গোদাবরী শেষ হতেই শুরু হলো ছোট ছোট পাহাড় l আর তার ওপরে বাড়ী ঘর, মন্দির দেখা যাচ্ছিলো l ছোট খাটো আরো নদী নালা পেরিয়ে চলেছি আমরা l উল্টানো বাটির মতো কত গুলো পাহাড়ের সারি দেখে দারুন লাগলো l জানালা থেকে চোখ সরাতে পারছিনা l মাঝে মাঝে ফলমূল এটা সেটা খাচ্ছি l জল কিনে পান করছি l এক আধবার বাথরুম যাচ্ছি আবার এসে বসছি l গল্পগুজবও হচ্ছে l ট্রেনের হকারদের বিচিত্র আওয়াজে কান ঝালাপালা l গরম লাগছে বেশ ভালোই l কিন্তু তারই ফাঁকে চোখ আটকে যাচ্ছে বাইরের দুনিয়ায় l বিভিন্ন জানা অজানা ফসল মাঠ জুড়ে l কলাবাগান, খেজুর গাছের বাগান, পেয়ারা বাগান একটার পর একটা অনাবিল আনন্দ নিয়ে দেখা দিচ্ছে l ফুলের খেতও বাদ যাচ্ছেনা l তাল গাছের এতো সারি আমি কোথাও দেখিনি l গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে রেল লাইনের ধারে ধারে তাল গাছের সারি l

দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম l বেশ গরম এদিকেl ঘুম ভাঙলো বিকেল পাঁচটার দিকে l তখন দেখি সূর্য পশ্চিম আকাশে ম্লান ভাবে সবকিছুই সোনালী আলোয় ভাসিয়ে দিয়ে যাচ্ছে l তাল গাছের সারি তবুও শেষ হওয়ার নাম নিচ্ছে না l গোধূলির আগের আলোতে সেগুলো মাথা তুলে একে অপরের হাত ধরে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে l বড় অপূর্ব সেই দৃশ্য l সম্ভবত কৃষ্না নদী বা তার কোনো শাখানদীর ওপর দিয়ে যখন ট্রেন ছুটে চলেছে তখন সূর্য তার সোনালী কিরণ ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে l প্রায় ছয় টা বাজতে যায় l চেন্নাই শহরের বাড়ী গুলো ছাদে সূর্য নেমে এলো l চেন্নাই স্টেডিয়াম দূর থেকে দেখা যাচ্ছিলো l সন্ধ্যায় চেন্নাই স্টেশনে পৌঁছলাম l খুব সুন্দর স্টেশন l বন্ধুর খুব পরিচিত একটা বাঙালি হোটেল যেটা স্টেশনের কিছুটা দূরেই, সেখানে বাঙালি খাবার মানে ভাত ডাল মাছ আলুপোস্ত ইত্যাদি পেট ভরে খেলাম l তারপর আবার স্টেশনে এসে বসলাম l বাইরেটা একটু ঘোরা ফেরা করলাম, ছবি তুললাম l রাত আটটায় আছে চেন্নাই থেকে আমাদের গন্তব্য অর্থাৎ কোঝিকোড় (কালিকট ) এর ট্রেন l শরীরটা বেশ ক্লান্ত লাগছে l

আজ এই পর্যন্তই l পরের গল্প পরের দিনl সবাই সুস্থ থাকুন l সঙ্গে থাকুন l ধন্যবাদ

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ