Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম (পঞ্চম পর্ব : তারাফেনি জলাধার, বেলপাহাড়ি)

  • মীর হাকিমুল আলি
  • May 15, 2020
  • 108 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চতুর্থ  পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

ঝাড়গ্রামে মধ্যাহ্নভোজন সেরে আমরা গাড়িতে চেপে বসলাম। গাড়ি ছুটে চলল বেলপাহাড়ীর দিকে। বেলপাহাড়ীতে যে এতগুলো ঘোরার স্পট আছে তখন কিন্তু জানা ছিল না আমাদের। ফেসবুক বা লোকের মুখে ঘাগরা, তারাফেনী এসবের নাম শুনেছিলাম। তাই বেলপাহাড়ি বাজারে গিয়ে একটি দোকানে জিজ্ঞেস করলাম তারাফেনী জলাশয়টা কোন দিকে? দোকানি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কোন দিকে যেতে হবে। সেইমতো আমাদের গাড়িটিও চলল। বেলপাহাড়ি থেকে তারাফেনী যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত সুন্দর। দুই ধারে তালগাছের সারি আমাদের স্বাগত জানাচ্ছিল। মাঠে তখন চারদিকে সর্ষেক্ষেতের হলুদ ফুলের মেলা।

দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর রোদটা বেশ মিষ্টি লাগতে লাগল। সেই মিষ্টি রোদ গায়ে মাখতে মাখতে আমরা চলেছি তারাফেনী জলাশয়ের উদ্দেশ্যে। প্রধান রাস্তায় কিছুটা যাওয়ার পর ডানদিকে একটা শাখা রাস্তায় আমাদের গাড়ি বাঁক নিল কেন না সেখানে সাইনবোর্ডে তারাফেনী যাওয়ার রাস্তার নির্দেশ ছিল। রাস্তার দুই ধারে সুন্দর সুন্দর মাটির বাড়ি। কোনোটা একচালা, কোনোটা দোচালা। আবার একতলা দোতলা মাটির বাড়িও চোখে পড়ল। ছোট ছোট সুন্দর ঘরবাড়ি, নিকানো উঠান। বাড়িগুলির দেওয়ালে নানারকম ছবি আঁকা। কোনোটাতে আবার হালকা কালো-লাল রঙ দেওয়া।

কিছুদুর যাওয়ার পর একটা পুলিশ ক্যাম্প পড়ল। এই পুলিশ ক্যাম্প থেকে আর কিছুটা যাওয়ার পর আমরা আমাদের গন্তব্য অর্থাৎ তারাফেনী ড্যাম দেখতে পেলাম। গাড়ি থেকে নেমে আমরা সবাই সেই জলাধারের ধারে গিয়ে দাঁড়িয়ে বিকেলের মিষ্টি রোদে স্নান করে ছবি তুলতে শুরু করলাম। বেশ বড় আর লম্বাটে ধরনের এই জলাধারটি। চারদিকে ছোট-বড় গাছপালায় ঘেরা। তারাফেনী নদী ঘাগরা হয়ে এসে এই জলাধারে পড়েছে এবং এই জলাধার থেকে আবারও বেরিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে। যেহেতু শীতকাল তাই জলাধারের জল কিছুটা কম ছিল কিন্তু অসাধারণ এক রূপ ফুটে উঠেছিল। একদিক থেকে এই জল নীল রঙের লাগছিল। চারদিকে বিভিন্ন পাখি - বক, মাছরাঙ্গা পানকৌড়িদের ভিড়। এই জলাধারে মাছ ধরা হয় কিনা জানি না কেন না তখন কাউকে মাছ ধরতে দেখিনি। জলাধারের পাশ দিয়ে একটা রাস্তা চলে গিয়েছে। সে রাস্তা দিয়ে আমরা হেঁটে হেঁটে বেশ কিছুটা গেলাম। দেখতে পেলাম তারাফেনী নদী ক্ষীণ কলেবরে এসে জলাধারে মিলিত হয়েছে।

আশেপাশে থার্মোকলের পাতা পড়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারলাম শীতকালে এখানেও মানুষ পিকনিক করতে আসে। নদীর ধারে ধারে ঝোপঝাড়। ছোট-বড় তাল আর খেজুর গাছের বন। ঘন্টাখানেক কাটিয়ে আমরা এবার বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দিলাম। জায়গাগুলো সেইভাবে জানতাম না এবং আমাদের ড্রাইভার কিছুই জানত না বলে পার্শ্ববর্তী ঘাগরা বা আরো কিছু জায়গা আমাদের যাওয়া হয়ে ওঠেনি। একদিনের চিল্কিগড়-ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি ট্রিপ আমাদের শেষ হল। রাস্তার দুই ধারে অপরূপ সুন্দর সব ঘরবাড়ি, তাল-খেজুরের সারি, ফাঁকা মাঠ, সর্ষের ক্ষেত দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরলাম। আর সাথে নিয়ে এলাম বেশ কিছু মধুর স্মৃতি। তখন থেকেই বেলপাহাড়ি-ঝাড়গ্রামের প্রতি গাঢ় ভালোবাসা জন্মেছিল। পরবর্তীকালে ২০১৯ এর অক্টোবর মাসে বাইক নিয়ে বেলপাহাড়ীর প্রায় অনেকটা অংশই ঘুরেছিলাম। আবার হাজির হব অন্য কোন ভ্রমণের গল্প নিয়ে। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, ধন্যবাদ।

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ