Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম ( চতুর্থ পর্ব : ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী )

  • মীর হাকিমুল আলি
  • May 13, 2020
  • 122 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চিল্কিগড় রাজবাড়ীর পরেই আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী। বেলা তখন দ্বিপ্রহর। মাথার ওপর সূর্য। শীতের দিন হলেও দুপুরের রোদে আমরা বেশ নাজেহাল। শীতবস্ত্র খুলে গাড়িতে রাখতে বাধ্য হয়েছি। ঝাড়গ্রাম শহরের মধ্যেই আর এক ঘোরার জায়গা এই রাজবাড়ী। সর্বেস্বর সিংহ ছিলেন এখানকার রাজা। ঝাড়গ্রাম শহরের প্রধান আকর্ষণ এই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী। রাজপুতানার ক্ষত্রিয় সর্বেশ্বর মল্লদেব রাজবংশের পত্তন করেন। রাজবাড়ীটি ১৯৩১ সালে ৭০ বিঘা জমির নির্মিত হয়। ইসলাম-গথিক শিল্পরীতিতে এই রাজবাড়ীটি তৈরি করিয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম এর সর্বশেষ রাজা নরসিংহ মল্লদেব। তারপর বহুবছর অতিবাহিত। কিন্তু এখনো টিকে আছে সেই রাজপ্রাসাদ ও রাজপরিবারের লোকজনও।

আমরা অনেকেই প্রাসাদটিকে বহুবার বড়পর্দায় দেখেছি। যেমন 'বাঘ বন্দী খেলা' সিনেমায় এই বাড়ি ভবেশ বাড়ুজ্জের বাড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবার কখনো এই বাড়ি 'সন্ন্যাসী রাজা' সিনেমায় সূর্যকিশোর নাগ চৌধুরীর প্রাসাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সত্তরের দশকে এক সময় মহানায়ক উত্তমকুমার এই রাজবাড়ীতে এসেছিলেন 'বাঘ বন্দী খেলা''সন্ন্যাসী রাজা' ছবির শুটিংয়ের জন্য। একতলার পর্যটক আবাসে মহানায়ক ও কলাকুশলীদের রাখা হয়েছিল। মহানায়কের স্মৃতিধন্য এই রাজবাড়ী তাই অনেকের কাছে একটা নস্টালজিক ব্যাপার। প্রধানত প্রাসাদের সিংহদুয়ার থেকে শুরু করে সামনের বাগানে ও একতলায় এসব সিনেমার শুটিং হয়েছিল। তারপরও বেশ কিছু ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। প্রাসাদের দোতলায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। কেননা দোতলায় থাকেন রাজপরিবারের উত্তরসূরিরা। তাই দোতলায় কাউকেই শুটিংয়ের অনুমতি দেয় না ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেই প্রথমবার প্রাসাদের দোতলার ঘরে এবং তিনতলার সিঁড়িতে ও চিলেকোঠার ঘরে 'টিনটোরেটোর যীশু''টিম ফেলুদা'কে শুটিং এর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপরও বেশ কয়েকটি সিনেমার শুটিং হয়েছে ঝাড়গ্রাম এবং চিল্কিগড় রাজবাড়ীতে। যেমন কিছুদিন আগে প্রকাশিত 'দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন' সিনেমাটির কিছু অংশ ঝাড়গ্রাম ও চিল্কিগড় রাজবাড়ীতে শুটিং হয়েছিল।

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ীর গঠন এবং কারুকার্য বড়ই আকর্ষণীয়। রাজবাড়ী চত্বরটি অত্যন্ত সুন্দর। সুন্দর বাগান এবং শীতকালে সেই বাগানে হরেক রকমের ফুলের বাহার। চারদিকে গাছগাছালি তে ভর্তি। সবুজ প্রকৃতির মাঝে এরকম সুন্দর একটি রাজবাড়ী ঘুরে দেখার মতই। তবে রাজবাড়ীতে প্রবেশ সাধারণের জন্য নিষেধ। বিশেষ অনুমতি ছাড়া রাজবাড়ির সব জায়গায় যাওয়া যায় না।

রাজবাড়ী চত্বরেই পর্যটকদের থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। রাজবাড়ীতে একটি হেরিটেজ হোটেল আছে যার নাম নাম 'দ্য প্যালেস ট্যুরিস্ট রিসর্ট'। দুটি সুপার ডিলাক্স ও দুটি ডিলাক্স সহ মোট দশটি ঘর রয়েছে সেখানে। এছাড়াও রয়েছে অনেকে একসঙ্গে থাকার জন্য তিনটি ডরমেটরি। একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন পর্যটক এখানে থাকতে পারেন। বর্তমানে, রাজ পরিবার ও রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম যৌথভাবে এই রিসোর্টটি চালায়। এছাড়াও মল্লরাজাদের খাসমহলে ৪০ বিঘা ব্যাপ্ত মহুয়া শালবাগানে গড়ে উঠেছে আরেকটি প্রকৃতি নিবাস 'শালবনি রিট্রিট'। যারা ঝাড়গ্রাম-চিলকিগড় বেড়াতে আসবেন তারা ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ীর পরে পরেই বিকেলবেলা দেখে নিতে পারেন ঝাড়গ্রাম ডিয়ার পার্ক যা একটা ছোটখাটো চিড়িয়াখানার মত। এখানে হরিণ, হাতি, কুমির, কালো খরগোশ, ভালুক, লেপার্ড সহ অন্যান্য জন্তু-জানোয়ার দেখা যায়। রয়েছে নানা ধরনের পাখি।

যেহেতু দুপুর গড়িয়ে যেতে বসছে এবং খিদেয় আমাদের পেট চু-চু করছে তাই আমরা আর সময় নষ্ট না করে একটা খাবার হোটেলের সন্ধান করতে চললাম। মধ্যাহ্নভোজন শেষ হলেই আমরা চলে যাব বেলপাহাড়ীর তারাফেনী ড্যাম।

পরবর্তী পর্বে সেই গল্প হবে। l

(ছবি আমার এক বন্ধুর আঁকা )

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ