Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Travel

অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম (তৃতীয় পর্ব : চিল্কিগড় রাজবাড়ী )

  • মীর হাকিমুল আলি
  • May 10, 2020
  • 244 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

চিল্কিগড়ের বিখ্যাত কনকদুর্গা মন্দির দেখার পর আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল চিল্কিগড় রাজবাড়ী। দুপুর 12 টা নাগাদ রাজবাড়ী পৌঁছলাম। রাস্তার একদম ধারেই এই রাজবাড়ী। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে 13 কিমি দূরে  চিল্কিগড় রাজবাড়ী। প্রধান রাস্তার উপরেই রাজবাড়ী প্রবেশের বড় তোরণদ্বার। রাজবাড়ী চত্ত্বর বেশ বড়ো l  বাl একটা অশথ্ব গাছ এখনো প্রাচীনের সাক্ষী দিয়ে চলেছে । সামনেই রাজবাড়ী ও তার বাম দিকে পর পর পুরানো তিনটি মন্দির l  রাজা গোপীনাথ সিংহ আজ থেকে প্রায়  তিনশো বছর আগে চিল্কিগড়ে এই রাজবাড়ী টি নির্মাণ করেন l কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জামাটা জগন্নাথ দেও চিল্কিগড়ের সিংহাসনে বসেন l ইতিহাসের বহু ঘটনার সাক্ষী এই চিল্কিগড় রাজবাড়ী l

 

জরাজীর্ণ  কলেবর নিয়ে এখনো  দাঁড়িয়ে আছে সেই  প্রায় তিনশো বছরের পুরনো  এই রাজবাড়ীটি। মূল প্রাসাদে রাজবাড়ীর বংশধরেরা বসবাস করেন, সেখানে ঢুকতে দেয়না । মুঘল ও ব্রিটিশদের মিলিত স্থাপত্যশৈলীতে তৈরী দোতলা এই রাজবাড়ীর দেওয়ালে অন্যান্য কারুকার্যের সাথে বাংলা রীতির শিল্পরীতির ছাপ লক্ষ্যণীয়। চত্ত্বরের ভেতরে থাকা মন্দির তিনটিও জীর্ণকায়। এর মধ্যে সবথেকে বড় নবরত্ন মন্দিরটি রাধাকৃষ্ণের কালাচাঁদ মন্দির। মন্দিরটি আরো একটা পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সাধারণের প্রবেশ সম্ভব নয়। ধবল রাজপরিবারের মন্দির এটি। প্রধান ফটকের পাশের মন্দিরটি শিবালয়। বেশ উঁচু বাংলার শিল্পরীতিতে নির্মিত। মূল গর্ভগৃহে পূজার সময় প্রবেশ করা যায়। আরো একটা ভগ্নপ্রায় মন্দির আছে। সেটি দূর্গা মন্দির। পঞ্চরত্ন মন্দির। এটির অবস্থা একদম খারাপ। কালাচাঁদ মন্দিরে এখনো নিয়মিত পূজার্চনা হয়ে থাকে। মূল রাজবাড়ীর পাশেই রাখা আছে রথের কাঠামো। অনতিদূরে কাছারিবাড়ি। গোটা রাজবাড়ী উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। তবে রাজবাড়ীর বিরাট সাজসজ্জা, জৌলুসের ছাপ এখন নেই মোটেও। খুবই সাধাসিধে একটা রাজবাড়ী। এখানে ঢুকতে হলে কোনো পারমিশন বা টিকিট লাগে না। সাধারণের প্রবেশ অবাধ।

পরের গল্প ক্রমশ...

পরিচিতি:

মীর হাকিমুল আলি পেশায় একজন গৃহশিক্ষক এবং একটি বিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের শিক্ষক (ভূগোল)। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে জানা, সেখানকার মানুষদের পোশাক, বাড়িঘর কেমন, ভাষা, উৎসব, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছোটো থেকেই তাই ভূগোল বিষয় নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরী হয়l স্কুল জীবনে কাছাকাছি ঘুরতে গেলেও কলেজ এক্সকারসন থেকেই তার ভ্রমণ একটি নেশায় পরিণত হয়l তারপর একটু একটু করে তা বাড়তে থাকেl বর্তমানে তার বয়স ২৬ ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের কিয়দংশ ঘুরে ফেলেছেন তিনিl সেগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ইত্যাদিl তবে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ ঘোরার ইচ্ছা তার বরাবরেরl ঘোরার পাশাপাশি ছবি তুলতেও আগ্রহী লেখক।
শেয়ার করুনঃ