Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Short Story

মল্লিকা

  • কাকলী দে
  • April 26, 2020
  • 170 বার পড়া হয়েছে
Download PDF

গ্র্যাজুয়েশানের পর স্থায়ী চাকুরী না পাওয়াতে কিছুদিনের জন্য একটি সুপার-ভাইজারের কাজ করেছিলাম। জঙ্গল কেটে একটা গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরীর কাজ। তখন আমার আস্তানা জঙ্গলের ভিতর নদীর ধারের বাংলোতে। সারাদিন মজুরদের কাজ দেখতাম আর সন্ধেবেলা বারান্দায় বসে থাকতাম। এইরকম এক সন্ধেবেলায় জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে বসে আছি। সামনে কুয়াশার চাদরে মোড়া অমাবস্যার জঙ্গল। ঝিঁঝিঁর ডাক, জোনাকির আলোর চকিত ঝলক, অন্ধকার নিস্তব্ধ বনভূমি আর ছাতিম ফুলের গন্ধ আমায় এক অপার্থিব জগতে নিয়ে চলে যেত। দূর থেকে ভেসে আসত নদীর জলের আওয়াজ আর সাথে সাঁওতালদের মাদলের শব্দ। আমার বাংলো থেকে নদীর দূরত্ব বেশী ছিল না। একা থাকতে থাকতে মাঝে মাঝেই বাড়ীর কথা, আমার ছোটবেলার খেলার সাথী মল্লিকার কথা মনে পড়তো। ওকে আমি আদর করে মলি বলে ডাকতাম। আমরা পরস্পরকে ভালবাসতাম। ভেবেছিলাম একটা স্থায়ী চাকুরী পেলেই বিয়ের কথা বলব বাড়ীতে। অতদূর থেকে বাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ সহজ ছিল না। একদিন বসে বসে ভাবছি একটা চিঠি লিখব বাড়ীতে।

ঠিক সেইসময় নদীর দিক থেকে কারুর হেঁটে আসার শব্দ পেলাম। ছপ ছপ করে একটা পায়ের আওয়াজ এগিয়ে আসছে আমার বাংলোর দিকে।  তার সাথে একটা রিন ঝিন শব্দ। বাংলো থেকে একটু দূরে এসে শব্দটা থেমে গেল। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তারপরেই অনুভব করলাম  কেউ যেন পিছন থেকে আমায় জড়িয়ে ধরে ফিস ফিস করে কিছু বলার চেষ্টা করছে কিন্তু আমি তার ভাষা বুঝতে পারছি না। একটা ঠাণ্ডা হাওয়া আমায় ছুঁয়ে দিয়ে গেল। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ঝুম ঝুম করে একটা নুপূরের শব্দ আমার পাশ দিয়ে ছুটে চলে গেল আর সেই সাথেই একটা ভীষন চেনা মিষ্টি গন্ধ নাকে এলো। ঠিক যেন মলির মাথার তেলের গন্ধ। মনে হল মলি আমার খুব কাছেই রয়েছে। ওই নুপূরের শব্দ যে আমার খুব চেনা, শব্দটা এতজোরে কানের কাছে বাজতে লাগল যে আমি দুহাত দিয়ে কান চেপে হতভম্ব হয়ে বসে রইলাম।  

খানিক দূরেই ছাতিম গাছের তলা থেকে এবার শব্দটা ভেসে এলো। কি ঘটছে কিছুই মাথায় ঢুকছে না।

গাছের নীচে থোকা থোকা  জোনাকির আলোয় ফুটে উঠছে একটা নারী শরীর। অবাক হয়ে দেখলাম মলি দাঁড়িয়ে আছে আমার দিকে তাকিয়ে, কি যেন বলতে চাইছে, বেহুঁশের মতো পায়ে পায়ে আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম, দুহাতে ওকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে গাছের গায়ে ধাক্কা খেলাম। একরাশ হিমেল হাওয়া এসে আমায় জড়িয়ে ধরলো, দেখলাম কেউ কোথাও নেই, অন্ধকার রাতের নিস্তব্ধতা আমায় গ্রাস করলো। মনে হতে লাগলো এই পৃথিবীতে আমি যেনো ভীষণ একা হয়ে গেলাম।  

দিনকয়েক পরে বাংলোর কেয়ারটেকার একটা চিঠি এনে দিল, মায়ের চিঠি, মা জানিয়েছে, গত অমাবস্যায় কলেজ থেকে ফেরার পথে বাস অ্যাক্সিডেণ্টে মল্লিকার মৃত্যু হয়।

পরিচিতি:

কাকলী দে

শেয়ার করুনঃ