Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Short Story

পক্ষ

  • অঞ্জলি দে নন্দী
  • July 1, 2020
  • 133 বার পড়া হয়েছে
Download PDF

মিষ্টার গুপ্ত। মিসেস দে'র পড়শী। পাশাপাশি দু বিল্ডিং। গুপ্তদা'র এল. আই. জি.- টি ব্যাক সাইডে। আর দে ভাবির এল. আই. জি.-টি ফ্রন্ট সাইডে। এই এরিয়ায় বাঙালী বলতে, এই দু ফ্যামিলিই। উত্তর প্রদেশের, গাজিয়াবাদে এরা ফ্ল্যাটবাসী। গুপ্তদা ফ্ল্যাটটি বেশ কয়েক বছর আগে কিনে, বাস করছে। দে সবেমাত্র কিনে এসেছে। আসার পরই দু ফ্যামিলির মধ্যে ভাব জমে গেছে। প্রবাসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বাঙালিদের মধ্যে এরকম, জলদিই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে থাকে।
 
গুপ্তদা বেঙ্গলের, মেদিনীপুরের ছেলে। ওখান থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে, আমেরিকার এক কোম্পানিতে জব করত। তারপর কলকাতার মেয়েকে বিয়ে করে কলকাতার বাসিন্দা হয়। জবও ওখানে। সেখান থেকে এখন শালীমার গার্ডেনের ফ্ল্যাটবাসী। এখন আবার অন্য একটি কোম্পানির এমপ্লয়ী। মিসেস গুপ্তা কলকাতার এক কলেজের বাংলা প্রফেসর কন্যা। সে নিজেও বাংলায় এম. এ. পাস। রবীন্দ্র সঙ্গীতেরও ডিগ্রী অর্জন করেছে। এখানে বিভিন্ন স্থানে, বেঙ্গলি এসোসিয়েসনের আয়োজিত বাঙালী অনুষ্ঠানে গেয়ে ভালোই রূপীয়া পায়। ফ্ল্যাটে প্র্যাকটিস করে। এদের একটি ছেলে আছে। একটি এঙলোবৈদিক স্কুলে, ক্লাস সিক্সে পড়ে। এদের বিল্ডিং-এর সামনের দিকে দুটি মারাঠী পরিবারের বাস। পিছনে ও একাই। মিসেস দে-এর সঙ্গে মারাঠিদের বেশ ভালো সম্পর্ক। পাশাপাশি ব্যালকনি তো। সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা হয়। আর গুপ্তা ভাবির সঙ্গে কথা বলতে গেলে ছাদে উঠে আসতে হয়। এক ছাদ থেকে আর এক ছাদে অনায়াসে যাওয়া যায়। মাঝে কোমর পর্যন্ত উঁচু একটি দেওয়াল। তাই দু ছাদে দুজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রায়ই কথাবার্তা হয়। এদের সামনেই একটি পার্ক। এই পার্কটি মাঝে। তার চারপাশে রাস্তা। তার চারপাশে প্রচুর বিল্ডিং। উঁচু উঁচু উঁচু বিল্ডিং। তাতে প্রচুর ফ্ল্যাট। দে তো ব্যালকনি থেকে পার্কে বাচ্চাদের খেলা দেখে। সারাদিন কেউ না কেউ খেলেই। আবার নিজের বাচ্চা ছেলেটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এই পার্কে, রোজ বিকালে খেলাতে আসে। গুপ্তা বৌদীকেও, দে বৌদী বলে, " বৌদী! আপনিও রোজ বিকেলে আপনার ছেলেকে নিয়ে পার্কে খেলাতে আসুন না! আমি তো রোজ আসি। " যখন ছাদে দেখা হয় তখন বলে। রাতে শোবার আগে ওরা ছাদে হাঁটে। সঙ্গে ওদের স্বামীরা ও ছেলেরাও থাকে। কিন্তু গুপ্তা বৌদী পার্কে আসতে রাজী হয় না।

এবার এদের দেখা সাক্ষাৎ স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় ও স্কুলের ভেতরেও হয়। দুজনের ছেলেই যে একই স্কুলে পড়ে। দে বৌদীর ছেলে এই প্রিনার্সারীর ছাত্র। প্রথম বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তো, দে বৌদি নিজের ফ্ল্যাট থেকে নেমেই রিক্সা করে নেয় স্কুলে পৌঁছয়। আবার ছেলের সঙ্গে, স্কুলের গেটের সামনে থেকে রিক্সা করে ফ্ল্যাটে ফেরে। যেতে দশ রূপীয়া ও আসতে দশ রূপীয়া ডেলি। শনি ও রবিবার ছুটি। ছোট্ট বাচ্চাদের ক্লাস তো তাই। এবার এদের স্কুল টাইমও মাত্র দু ঘন্টা। এখানকার স্কুল সকাল থেকে শুরু হয় এবং দুপুরে ছুটি হয়ে যায়। গুপ্তা বৌদির ছেলের ছুটি অনেক পরে হয়। তবে স্কুলের আরম্ভ সব ক্লাসেরই একসঙ্গে হয়। তাই যাওয়ার ও স্কুলের ভেতরে এদের দেখা হয়ে যায়। ফেরার সময় দেখা হয় না। গুপ্তা বৌদি রোজই দে বৌদির ব্যালকনির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা করে। ব্যালকনি ও রাস্তা থেকেও ওদের দুজনের কথা হয়। একদিন দুপুরে দে বৌদীর ছেলের ও গুপ্তা বৌদীর ছেলের এক সঙ্গে ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে স্কুল থেকে, আগের দিন। কারণ সেদিন স্কুলে ফাংশন হবে। এরা দুজনই , দে বৌদীর ছেলে ওয়েস্টার্ন ড্যান্স ও গুপ্তা বৌদীর ছেলে রিসাইটেশনে অংশ নিয়েছে। আর সেই বিকালে স্কুল থেকে ওরা আসবে। গার্ডিয়ানসদেরও ইনভাইট করা হয়েছে। তাই ওরা ঠিক করল যে দুপুরে দুজনে একসাথে ছেলেদের স্কুলে যাবে। হ্যাঁ, ফাংশন দুপুর থেকে শুরু হবে। সকালে তবে সকল ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পৌঁছে যেতে হবে। আর গেস্টরা দুপুরে আসবে। তো গুপ্তা বৌদী বগলে ছাতা নিয়ে রোজই দুপুরে ছেলেকে আনতে যায়। দে বৌদি তা রোজই ব্যালকনি থেকে দেখে। দু একটা কথাও ওই সময় রোজই হয়। আজ যখন দুজনে মিলে একসঙ্গে যাচ্ছে তখন দে ভাবী বলল, " ভাবী! আজ আসুন আমরা রিক্সা করে যাই। বড্ড রোডের তাপ! এখন তো ফরটি এইট ডিগ্রী চলছে। দেখুন না কিরকম গরম হাওয়া বইছে। গা একেবারে ঝলসে যাচ্ছে। " গুপ্তা বৌদি বলল, " না, আমি হেঁটেই যাবো। তুমি যাও! " কিন্ত আজ দে বৌদিও গুপ্তা বৌদীর সঙ্গে হাঁটলো। প্রায় পনেরো মিনিট হেঁটে তারপর স্কুল। তো হাঁটতে হাঁটতে মিসেস দে বলল, " আচ্ছা বৌদি! আপনি রোজ দেখি যে ছাতাটি বগলে করে নিয়ে এই তপ্ত দুপুরের রোদে খালি মাথায় হাঁটেন; ক্যানো আপনি ওটি খুলে মাথায় দ্যান না? " তখন মিসেস গুপ্তা বলল, " আমি কষ্ট করলে আমার ছেলের লেখাপড়া খুব সফল হবে! তাই এরকম করি আর কি! ফেরার সময় ছেলের মাথায় এটা খুলে ধরে নিয়ে আসি। দুজনেই হাঁটি। রিক্সা করি না। হাঁটার অভ্যাস ভালো তো, তাই। যদিও খুব রোদ বলে ছেলেটি কষ্ট পায়, তবুও আমি ওকে রোজ ফিফটিন মিনটস, রোদে হাঁটাই; শরীর শক্ত হবে এতে, তাই। আর সকালেও তো হাঁটাই। তুমি তো দুবেলাই রিক্সা কর। রাস্তায় ক্রস কর তো; আমি তো প্রায়ই তোমাকে ছেলের সঙ্গে দেখি। " এই গুপ্তা বৌদি বিয়ের পর তার স্বামীর সঙ্গে আমেরিকাতে ছিল। ছেলের জন্মও ওখানেই। পরে ইন্ডিয়া এসেছে। দে ভাবে - এ কিরকম ভাবনা? এ তো ইউ. এস. এ.- এর মত জায়গায় থেকে এসেছে, তাও এরকম চিন্তাভাবনা! অবাক হলেও মুখে কিছু বলল না দে। এরপর ওরা স্কুলে পৌঁছে গ্যালো। ফাংশন দেখে বিকেলে একসঙ্গে আবার ফিরলো।

ছুটির দিনে এরা একে অন্যের ফ্ল্যাটে আসে। গল্প-আড্ডা, খাওয়াদাওয়া হয়। হাসি, হৈ হুল্লোড়। খুব ভালো কাটে। কথায় কথায় কথায় একদিন গুপ্তা বৌদি বলল, " জানো তো দে! আমার সামনের মারাঠীরা না আমার চৌকাঠে রোজ ওদের দু ফ্যামিলির দুটি পোষা কুকুরকে সুসু করায়। আমি বাধা দিলে আমাকে মারতে আসে। তুমি তো ওদের কাছে খুব ভালো হিসেবে, ভালো ব্যবহার পাও, তা এটি বন্ধ করতে বল, ওদেরকে! ওরা তো সবার কাছে তোমার খুব প্রশংসা করে, আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কেউ ওদের ফ্ল্যাটে এলে বলতে শুনি। তোমার লেখা ও পাবলিশ করা বইগুলো তো এখন এখানকার প্রায় সব স্কুলের স্টুডেন্টসই পড়ছে। তোমাকে তো এই এলাকার সবাই মান্য করে; যদি তুমি আমাকে একটু হেল্প কর! " তো একদিন দে বলল, " বৌদি তুমি আমাকে গান শেখাবে? আমি বিয়ের পর যখন লক্ষ্মী নগর, দিল্লীতে ভাড়া থাকতাম তখন শিখেছিলাম। এখন বন্ধ আছে। তো রোজ তুমি আমায় এরা অফিস ও স্কুলে যাওয়ার পর শেখাও না! " তো ও রাজি হল। রোজ যায় গুপ্তা বৌদীর ফ্ল্যাটে। একঘন্টা শেখে। মাসে দের হাজার টাকা দিতে হয়। একদিন গান শিখে গুপ্তা বৌদীর গেটটি খুলছে, এবার দে নিজের ফ্ল্যাটে আসবে বলে, এমন সময় কাক তালিও ভাবে ওই দু ফ্যামিলির, এক ফ্যামিলির গিন্নী কুকুরের চেন ধরে ঠিক গুপ্তার দরজায় সুসু করাতে যাচ্ছে তো, এমন সময় দে গুপ্তার ডোর খুলেই তা দেখতে পেয়ে বলল, " এ কি? ভাবী জী! " ও তখন বলল, " ওঃ! আপনিও বুঝি আমাদের লতাজীকে টপকাতে চাইছেন? " তখন দে বলল, " কি বেশরম কালচার! লতাজির নাম বলছেন আর অন্য এক গায়িকার গেটে পেটকে দিয়ে অসভ্যতা করছেন? ওনার মত কালচারাল মহিলার নাম আপনাদের মুখে শোভা পায় না! নিজেদের এবার বদলান! ওনার নামের মর্যাদা রাখুন! আমরা তো ওনার নামে মা শ্রী সরস্বতী দেবীকে নমস্কার জানাই। তাছাড়া আপনি তো বলেন যে আপনার পতি ও ছেলে ফিলিপ্স কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার, ওখানে বেশিরভাগ এমপ্লয়ীই নাকি বেঙ্গলি। তো সবাই খুব সুসভ্য। আপনার খুব প্রিয়। ওরা নাকি আপনার ফ্ল্যাটে আসে। আপনারাও নাকি তাদের ফ্ল্যাটে যান। তো এই গুপ্তা বৌদীর সঙ্গে এরকম দুব্যবহার করেন ক্যানো? ওদের কাছে নাকি আপনি আমার লেখা বয়ের খুব সুখ্যাতি করেন; তা এনাকেও এবার সম্মান করতে শিখুন! " এর কয়েকদিন পর গুপ্তা বৌদি বলল, " জানো তো দে! ওরা আর আমার গেটে কুকুরের সুসু করায় না। আমি স্বস্তি পেলাম। " এর কয়েক মাস পর গুপ্তা বৌদি বলল, " তোমার ফ্ল্যাটে গিয়ে আমি বিকেলে শেখাবো। সকালের দিকে আমি ঘুমোবো।" দে বলল, " ওই সময় তো আমি ছেলেকে পার্কে খেলাই। তাই হবে না। " গুপ্তা বৌদি রাজি হল না। তাই দে গান শেখা ছেড়ে দিল।

এরপর একদিন হঠাৎ গুপ্তদা রবিবার সকালের দিকে আমাদের ফ্ল্যাটে এলো। সঙ্গে অন্য একজন আছে। তো আলাপ করালো। " এ হচ্ছে আমার ছোট বেলার বন্ধু। আমরা মেদিনীপুরের একই গ্রামের স্কুলে পড়েছি। একই পাড়ায় থাকতাম। ও কলকাতা থেকে ডাক্তারী পাস করে তারপর লন্ডনে পড়েছে ও ওখানে জব করত। এখন দিল্লীতে একটি ডাক্তারী কলেজে পড়ার। এখানে আমার বিল্ডিং - এর থেকে প্রায় পঁচিসটি বিল্ডিং পরে, একটি এল. আই. জী. ফ্ল্যাট কিনে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে আছে। তো তাদের কথা জমে উঠল। এভাবেই চলতে থাকে...

পরে ডক্টর রযের মিসেসের সঙ্গে গুপ্তা ভাবি দে ভাবীর আলাপ করিয়ে দিল, স্কুলে। মিসেস রায়ের মেয়েও ঐ একই স্কুলে পড়ে। আর ডাক্তার রায় এই স্কুলেই নিজের প্রভাবকে ব্যবহার করে পত্নীকে মেডিক্যাল অফিসার পদে জব করাচ্ছে। এখানকার স্কুলে মহিলার সংখ্যা বেশি। একজন লেডী ডাক্তার ও মিসেস রয় স্কুলে জব করে। শুধু বসে বসে ইনকাম। মিসেস রায় গ্রাজুয়েট। মেদিনীপুরের গ্রামের বিরাট ধনী কৃষকের একমাত্র সন্তান। ডক্টর রায়ের নিজের গ্রামের থেকে বেশি দূরে নয় মিসেস রায়ের বাবার বাড়ি। দেখতেও বিশ্রী। সব কিছু তো এই মেয়েই পাবে তাই লন্ডনের ডাক্তার জামাই পেলো। তবে গুপ্তা ভাবি কিন্তু খুব সুন্দরী। আর দে বৌদীও সুশ্রী দেখতে। শিক্ষতাও এরা। এই তিন ফ্যামিলির খুব ভাব।

       হঠাৎ এক ছুটির সকালে, গুপ্তদা বিধ্বস্ত হয়ে দেদার ফ্যাটে এলো। বলল, " বৌদী! আমি আর পেরে উঠছি না! রাতদিন শুধু কথাকাটাকাটি, অশান্তি। না আছে সংসারে এডজাস্টমেন্ট পাওয়ার। না আছে বিল্ডিং-এর কারোর সাথে ভালো সম্পৰ্ক। টোটালি মেন্টাল পেশেন্ট। ছেলেকেও সব সময় খিট খিট খিট করে করে করে জবুথবু করে দিচ্ছে। এমন বউ যদি মরে যায় তো আমি শান্তি পাই। " মিসেস দে তখন টি. ভি. অন করে দিল।  স্পোর্টস চ্যানেল দেখার জন্য। মিষ্টার দে ও মিষ্টার গুপ্ত ফুটবলের ম্যাচ দেখতে লাগলো। গুপ্ত বেশ হালকা হল। ওরা দুজনে একসঙ্গে খেলো। ভাত, চিকেন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি...এরপর গুপ্ত নিজের ফ্যাটে গ্যালো।

সেদিন তো গ্যালো। পরের দিন দুপুরে ছেলেকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার সময় গুপ্তা বৌদী ও ওর ছেলে দে বৌদীর ফ্ল্যাটে এলো। গুপ্তা বলল, '' জানো তো? এরা আমাকে মারার চেষ্টা করছে। আমার ননদ একটা অল্প শিক্ষিতা, গরীবের মেয়ে, মোটা, কালো খুব খাটতে পারে এরকম পাত্রী ঠিক করে রেখেছে। আমি তো খাটতে পারি না। আজ মরলে কাল বিয়ে করবে। " তো সেদিন ওরা মাছেলে, দে'র এখানে খেলো। তারপর নিজের ফ্ল্যাটে গ্যালো। দে বৌদী ওদের স্বামী ও স্ত্রী - দু পক্ষেরই কথা আলাদা আলাদা ভাবে শুনে তাদের মধ্যে ভাব গাঢ় করে দিত। তাই ও ওদের অতি প্রিয় একজন পড়শী।

এটপর কয়েক মাস কেটে গেছে। হটাৎই দে  বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছে যে এক অন্য মহিলা গুপ্তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তার ব্যালকনির সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করছে। তো গুপ্তার ফ্ল্যাটে গ্যালো। শুনলো যে এই মহিলা গুপ্তার ননদ। মেদিনীপুর থেকে এসেছে। বৌদী নার্সিং হোমে। ব্রেষ্ট ক্যানসার। এরপর কয়েক মাস কেটে গ্যালো। এম্বুলেন্স করে সামনের রাস্তায় গুপ্তা বৌদীর লাশ এলো। দে রা নীচে গ্যালো। অনেক বেঙ্গলি এসেছে। গুপ্তদা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ননদ ভাইপোকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরে দাহ করতে চলে গেল।

এরপর একমাস এই ফ্যাটে থাকার পর, গুপ্তদা গ্রামে গ্যালো। তখন সেখানে গিয়ে ওই পাত্রীটিকে বিয়ে করে, বউকে নিয়ে এলো। এরপর একমাস পরে এই ফ্ল্যাটের থেকে পাঁচটা বিল্ডিং পরে একটি নতুন এম. আই. জি. ফ্ল্যাট ক্রয় করে সেখানে নতুন দ্বিতীয় পক্ষের ওয়াইফকে ও প্রথম পক্ষের ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। এটি তালা দিয়ে রাখলো।

তো দে দেখতো যে এই গুপ্তা রিক্সায় করে ছেলের সঙ্গে স্কুলে যাওয়া আসা করছে। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে বিলো স্ট্যাটাসের ফ্যামিলি থেকে এসেছে। যাক এতো উচ্চ হাসব্যান্ড পেয়ে তো গ্যালো। তো এও দে ফ্যামিলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিল।

ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে গুপ্ত দেয়েদের নিমন্ত্রণ করলো। এরা গ্যালোও। দেখলো ছেলেটা নতুন মায়ের সঙ্গে নিজের মায়ের থেকে বেশি হেসে খুশে রয়েছে। আর ওর মধ্যে কোনও জবুথবু ভাবও নেই। আর গুপ্তও বেশ হাসিখুশি রয়েছে। একজন চব্বিশ ঘন্টার মেড রেখেছে। মেদিনীপুর থেকে আনা। এ নাকি খুব পরিশ্রমী! আর শুনলো এ বউটি এখন প্রেগনেন্ট। তাই রেখেছে। এখানে কিন্তু কোনও বেঙ্গলিই এরকম মেড কখনোই রাখে নি। যাক.....

যথা সময়ে ওর একটি মেয়ে ভূমিষ্ট হল। নার্সিং হোম থেকে ফ্ল্যাটে এলো। দে বৌদি একটি সিলভার কয়েন দিয়ে ওর মুখ দেখলো। দাদা তো কচি বোনকে পেয়ে খুব খুশি। বাবাও তাই। দে এবার গুপ্তকে বলল, " তাকে একদম ভুলেই গ্যালেন বলুন? " তখন ও দেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে রাস্তায় এগিয়ে দিতে এসেছে। তাই বউ আর শুনতে পেল না। যে সময় গুপ্ত বলল, " না না না ভুলি নি! সবই মনে আছে। " এবার দে চলে এলো। গুপ্তও ওপরে তিন তলায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠে গ্যালো। দেও এসে তিন তলার নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকলো।

ভাবলো, প্রথম পক্ষের বউটি ছিল শুক্ল পক্ষ। আর দ্বিতীয় পক্ষের বউটি কৃষ্ণ পক্ষ। সে ছিল দুর্ভাগা। এ হল সৌভাগ্যবতী।

এরপর একমাস কেটে গেছে। মিষ্টার দে দিল্লীতে একটি এইচ. আই. জি. ফ্ল্যাট ক্রয় করে শিফট করলো। আর ওখানকার সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখা গ্যালো না। খুব দূর যে......

পরিচিতি:

অঞ্জলি দে নন্দী B. Sc. পাস। কলকাতা থেকে।

IGNOU এর
বাংলা
M. A. -এর
হেল্প বুকের অথর।
নতুন দিল্লী থেকে প্রকাশিত।
নিউ ডেলহী ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে এসেছে এই বইটি।

রজতের কবিতার ভান্ডার। কলকাতা থেকে প্রকাশিত।

ইংলিশ কবিতার বইগুলির পোয়েট।
নিউ ডেলহী থেকে পাবলিশ। নিউ ডেলহী ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ারে এসেছে।

শেয়ার করুনঃ