Note: Now you can download articles as PDF format
  • Mysterious

নাদির শাহের গুপ্তধন(পর্ব ৭)

  • অনিমেষ দত্ত
  • May 3, 2020
  • 165 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


আগের পর্ব টি পড়ুনঃ 

পর্ব - ৬

পথ-প্রদর্শক

(কলকাতা)

হাওড়া স্টেশনে ট্রেন ঠিক সময়ে ঢুকল।স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে শ্যামেন্ডিকে ফোন করল।

হাওড়া পৌছে গিয়েছি।

আচ্ছা।

তবে কলেজ আর যাব না তুমি একটু আর্কিওলজি বিভাগে আসতে পারবে।

ঠিক আছে।আসছি।

দেবাঞ্জন ফোনটা পকেটে ঢোকালো।তারপর একটা ট্যাক্সি ডাকল।

ট্যাক্সি চলতে থাকল সল্টলেকের দিকে।

ট্যাক্সিতে বসে দেবাঞ্জন ভাবতে লাগল শ্যামোন্ডির কথা।কিভাবে কলকাতায় এতটা কাছের কেও হয়নি।

দুপুর গড়িয়েছে শ্যামোন্ডির সঙ্গে ঠান্ডা রাগের লড়াই ততই বেড়েছে।

বাড়িতে গিয়ে আমাকে ভুলে যাও।

কলকাতা এলেই আমি।

আচ্ছা।

আরে শ্যামোন্ডি তুৃমি তো বোঝ কত কাজ।

রাগের কারণ আছে।আমি কিছু বুঝি না।

হঠাৎ দেবান ব্যাগ থেকে গোলাপফুলটা শ্যামোন্ডির সামনে বাড়িয়ে বলল

আমার সাথে।বিকানীর যাবে তো?

শ্যামোন্ডি আর কিছু বলতে পারল না।বলল যাব।কাল রাতেই তো ট্রেন?

হ্যাঁ কাল।

সব কিছু ব্যাগে গুছিয়ে নিও।দুএকদিন থাকব আমরা।

আমরা মানে?

আমরা মানে আমি আর তুমি সঙ্গে দিল্লীর সেই প্রফেসর ও তার সহকারী।

তুমি তোমার রঞ্জা-দি কে বলে দিও।

হ্যাঁ সব বলে দেব।

রাতে প্রফেসর কে ফোন করল দেবান।পরের দিন সকালে সব কিছু গুছিয়ে নিল।বাড়ি থেকে সব কিছু গোছানোই ছিল।

রাতে হাওড়া থেকে দুজনে চেপে বসল শতাব্দী এক্সপ্রেসে। ট্রেন রাঁচি পৌঁছল।

সেখানে ট্রেন চেঞ্জ করে রাজধানী এক্সপ্রেসে উঠে সোজা দিল্লি।দিল্লি থেকে ফের যাত্রা শুরু।দিল্লী তে প্রফেসর ও তার সহকর্মী ছিল।তারাও ট্রেনে উঠে পড়ল।বিকানির এক্সপ্রেস।তারপর ট্রেন পৌছোল বিকানিরে।লম্বা সফর।

বিকানিরের পরিবেশ দেবানকে বেশ অবাক করে দিল।

গাব্বু মামা বলল

রাজস্থানের উত্তরে শুষ্ক থর মরুভূমির একাংশে অবস্থিত বিকানির৷ যোধপুরের মহারাজা যোধারাও-এর দ্বিতীয় পুত্র বিকা’র নাম থেকেই জায়গার নাম হয় বিকানির৷ ইতিহাস বলছে, ভারতীয় শিল্পকলার অন্যতম পীঠস্থান ছিল এই মরু শহর৷ আবার উটের শহর নামেও এ নগরী পরিচিত৷

জায়গায়-জায়গায় ভুট্টা আর জোয়ারের চাষজমি সরোবরের তীরে গোলাপি স্যান্ড স্টোনের রাজপ্রাসাদ ও সংলগ্ন অভয়ারণ্য৷ যে অভয়ারণ্যে মেলে গজলা হরিণ, নীলগাই, চিষ্কারার মতো প্রাণী ও অসংখ্য রঙ-বেরঙের পাখি৷এই প্রাসাদ রাজাদের গ্রীষ্মবাস ও শিকারমহল হিসেবে ব্যবহূত হতো৷বর্তমানে এই প্রাসাদই রূপান্তরিত হয়েছে হেরিটেজ হোটেলে৷

বুঝলে দেবান।

দেবান মাথা নাড়ল।

মামা আবার বললেন।

রাজস্থানের মতো এত দুর্গ, এত কেল্লা আর কোথাও নেই। শত্রুদের হাত থেকে রক্ষার জন্যই রাজারা এত উঁচুতে দুর্গ বানাতেন।বিকানিরের জুনাগড় ফোর্ট আকবরের সেনাপতি রাজা রায়সিংহ নির্মাণ করেন ১৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে। চারিদিক ঘেরা এই ফোর্ট।

বুঝলে দেবাঞ্জন উট কা দুধ বহুত বড়িয়া।প্রফেসর বললেন।

সবাই কাজের আগে মনের খোরাক জোগানোর কথা ভাবল।

তবে তার চেয়ে বড় কথা দেবান ট্রেনেই বুঝতে পেরেছে কিছুজন তাদের পিছু নিয়েছে তাই সে সব কথা প্রফেসরকে জানাতে প্রফেসর এই উট আর দুধের ফন্দি আঁটল।

গাব্বু মামাকে সঙ্গে নিয়ে সবাই গেল বিকানিরের ক্যামেল রিসার্চ সেন্টারে উটের দুধ চাখতে।গাব্বু মামার দৌলতে সুযোগটাও হয়ে গেল দেবানদের।

এক কথায় অপূর্ব।বিকানিরের আচার-সুখ্যাতির কথা সবাই জানে।তাও খেতে কেও ভুলল না। বিকানির থেকে জয়সলমিরের উদ্দেশে রওনা দিল গাড়ি।

একটা ছোটো জিপ এ সবাই মিলে চলল।

এর পর যেখানে ‘স্যাম স্যান্ড ডিউস’-এ ঘর ভাড়া নিয়ে থাকার কথা ছিল।

সবাই রওনা দিল সেখানে। সেই সঙ্গে থর মরুভূমিতে উট আর জিপ সাফারির হাতছানি।রাজস্থানি মেয়েদের নাচের অনুষ্ঠান।

রাতে গাব্বু মামাকে বলল মামা যোধপুর যাব।

মাম বলল আমি জানতাম তো।রাজস্থান এসেছে যোধপুর যাবে না তা কি হয়?

সব রেডি হয়ে যাবে।

সেই রাতে জয়সলমির থেকে যোধপুর এক্সপ্রেসে চেপে যাত্রা শুরু হল।

মামা আবার বললেন

যোধপুরের মেহেরানগড় ফোর্ট হল রাজস্থানের সবচেয়ে বড় দূর্গ—১২৫ মিটার উঁচু আর ৫ কিলোমিটার লম্বা।রাজারা সেই সময় খুব নিচু আর ছোট খাটে শয্যা নিতেন, যাতে শত্রুপক্ষ আক্রমণ করলে সঙ্গে সঙ্গে রাজা সজাগ হতে পারেন।এই সব ফোর্টের স্থাপত্যশিল্প সত্যিই সকলের মন ভরিয়ে দিল।

খবারের দিক দিয়ে

রাজস্থানের আর একটি বিশেষত্ব হল ওখানকার সুস্বাদু লঙ্কার চপ, পেঁয়াজ-কচুরি আর ডালবাটি চুরমা।

শ্যমোন্ডি বলল আমি সব খাব।

মামা বলল নিশ্চয় খাওয়াব।

প্রফেসর ও তার সহকারী নিলমি এমনকি দেবান একেবারে চুপ।রতনগড় আর বিকানীর তারা ঘুরতে আসেনি।কাজে এসেছে।সেখানে এভাবে পেছনে লেজুড় লাগবে তা কল্পনাও করতে পারেনি।

রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে শ্যামোন্ডি দেখল গরম কড়াইতে দুধ জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। আর জ্বাল হয়ে গেলে সেই গরম দুধেই কাজু, পেস্তা দিয়ে দিব্যি পরিবেশন করা হচ্ছে।সেটাই সবাই খেল।

বুঝলে দেবান।মামা বলল

জয়পুর হল রাজস্থানের রাজধানী, যাকে আমরা ‘পিঙ্ক সিটি’ বা ‘গোলাপি নগরী’ নামে চিনি।

দেবান আনমনে বলল আচ্ছা।

মামা গাইডের মতো বলল

এই জয়পুরেই আছে ‘হাওয়া মহল'।মহারাজা সোয়াইমান সিংহ নির্মাণ করেন ১৭৯৯ সালে। মহারাজা ছিলেন কৃষ্ণের ভক্ত, তাই মহলটি তিনি প্রভু কৃষ্ণকেই উৎসর্গ করেছিলেন। এ হাওয়া মহলে ৩৬৫টি জানালা রয়েছে। তখনকার দিনে নারীদের পর্দা প্রথার জন্যই জানালা নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে রানি জানালায় এসে হাওয়া খেতে পারে।

তবে আসল কথাটা হল, রাজস্থান সম্পর্কে যতই বলা হোক না কেন, শেষ করা যাবে না।

বুঝলে।

হ্যাঁ বুঝলাম।দেবান বলল।

মামা পথপ্রদর্শক না গাইড। কিছু বুঝতে পারছে না দেবাঞ্জন।হাতে মাত্র দুদিন কি করে সবটা খোঁজ করবে জানা নেই।

ছবি-সৌভিক ঘোষ।

পরিচিতি:

জন্ম ১৪ জানুয়ারী, ১৯৯৫।বেড়ে ওঠা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আনন্দপুরে। প্রথমে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ সংস্থায় শিক্ষা লাভ।পরবর্তী কালে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে স্নাতক। বর্তমানে মেদিনীপুর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে পাঠরত। স্কুলের দেওয়াল ম্যাগাজিনে গুচ্ছ কবিতা দিয়ে সাহিত্য জীবন শুরু।প্রথম গল্প প্রকাশ পায় ২০১৭ সালে।এরপর থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও ওয়েবে গল্প,কবিতা প্রকাশ পেয়ে চলেছে। যেমন -কালি কলম ও ইজেল,পান্ডুলিপি,এবং সায়ক,প্রাঙ্গণ,শব্দসাঁকো,মুকুর,৯নং সাহিত্য পাড়া লেন,শহরতলীর ডায়েরী প্রভৃতি। নাদির শাহের গুপ্তধন লেখকের প্রথম উপন্যাস।
শেয়ার করুনঃ