Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Mysterious

নাদির শাহের গুপ্তধন(পর্ব ৬)

  • অনিমেষ দত্ত
  • March 18, 2020
  • 338 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


আগের পর্ব গুলি পড়ুনঃ 

পর্ব - ৫ |  পর্ব - ৪ |  পর্ব - ৩ |  পর্ব - ২ |  পর্ব - ১

অষ্টাদশ শতক,মোঘল আমল

(দিল্লী)

কূটকৌশল

মারাঠা প্রধান সাহুর রাজদরবার অন্যান্য দিনের মতো বেশ গম্ভীর।মোঘল শাষনের মতো বিশেষ করিয়া এখানের সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই সৌখিন।

যেখানে যাহা দরকার তাহা যত্ন সহকারে করার রীতি সাহুর মধ্যে বহুলভাবে লক্ষ্যবিন্দু।আহার বিহারে যত্নের কোনরূপ আভরণ নাই।সুরক্ষার আভরণ সরকির মতো ধারালো।আস্তিন থেকে সরকি যেমন লুকিয়ে থাকা শত্রুকে খতম করিতে পারে,সুরক্ষিত কেল্লা তেমনি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে চলিয়াছে।

শিবাজী তাহার দুর্গ গুলি যেরূপ উচ্চ প্রাচীর বিশিষ্ট, পরিখা বিশিষ্ট করিয়া গিয়াছেন তাহা সাহু কিছুগুণ বৃহদাকার করিয়া দিয়াছে।

দরবারে নিজের নিজের কাজ যেমন হইয়াছে তেমনি গুপ্তচরের কাজও বেশ বাড়িয়া গিয়াছে।

সহসা এক সিপাই আসিয়া কহিল

মহারাজ সাহাজি আসিয়াছে।

সাহু ইঙ্গিতে আসার অনুমতি প্রদান করিলেন।মহারাজ সাহু খুব অল্প বাক্য ব্যয় করেন।রাজকার্যে তেমন বিচক্ষণতার পরিচয় না দিলেও তিনি কোথাও কোনরূপ আক্রমন করিতে দেন না।

সাহাজি রাজসভায় প্রবেশ করিল।সাহাজির পরিচয় এখানে দেওয়া আবশ্যক।

ফর্সা গোলগাল মুখ।মুখে হাসি হইলে বলিরেখা সামান্য প্রকট হয়।পেটানো গড়ন।গলা হইতে

লম্বা নীল জোব্বা।সারা মুখে লম্বা সাদা দাঁড়ি,মাথায় হলুদ ফেট্টি।কোমরে জড়ানো মোটা কোমরবন্ধ।পায়ে শোভা পাইতেছে নাগরাই জুতো।কাঁধে ঝুলে রয়েছে কাপড়ের থলে।

সাহাজি ছদ্মবেশ ধারনে বেশ পটু।

থলের মধ্যে সম্বল কেবল বাজরার রুটি আর এক জোড়া জামা কাপড়।ছদ্মবেশ ধারনের আরও কিছু সরঞ্জাম।যদিও জোব্বার ভেতরে ধারালো ছুঁরি লোকানো থাকে।

মহারাজের সামনে এসে সাহাজি বলিলেন-জয় ভবানী,জয় শিবাজী,জয় ভবানী,জয় শিবাজী।

সাহু এইবার মুখ খুলিলেন।জয় ভবানী,জয় শিবাজী।

শিবাজী মহারাজ ও মা ভবানীর প্রতি তিনি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।

তারপর বলিলেন

কি খবর সাহাজি?

সাহাজি ভয়ের সহিত বলিল

মহারাজ যুদ্ধের সময় আগত।গোপন খবর জানতে পারিয়াছি।দিল্লী এ সময় বেশ শান্ত তাই মহম্মদ শাহ যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করিয়াছেন।নতুন কামান ঢালাইয়ের কাজ শুরু হইয়াছে।বারুদ তৈরীর কাজও জোর কদমে চলিতেছে।দিল্লীর অলিতে গলিতে মারাঠা দমনের প্রস্তুতি তুঙ্গে।

সাহু বেশ চিন্তিত স্বরে বললেন।

এ তো বেশ চিন্তার বিষয়।

তারপর একটু ভেবে বলিলেন

সাহাজি তোমার কি মত।এখন কি করনীয়।যুদ্ধ না মিত্রতা?

সাহাজি তেমন চিন্তিত না হইয়া বলিল

যুদ্ধ মহারাজ যুদ্ধ।

মহারাজ আমরা মা ভবানীর সন্তান, শিবাজীর নীতি -কৌশল আমাদের রক্তে। যুদ্ধে আমরা ভয় পাই না।

যুদ্ধই শ্রেয়।

সাহুর এক অমাত্য বলিল

একদম ঠিক মহারাজ।

যুদ্ধ ছাড়া মোঘলদের মোক্ষম জবাব দেওয়া শক্ত।যুদ্ধ না করিলেও সকল সম্পদ, আব্রু হরণ করা মোঘলদের ধর্ম।তাহার চেয়ে যুদ্ধ অনেকাংশে শ্রেয়।

সভার সকল পারিষদ বর্গ একই মত প্রদান করিলেন।

সাহু বলিলেন সেনাপতিকে খবর পাঠানো হোক। যুদ্ধের প্রস্তুতি যেন পুরো দস্তুর হওয়া চাই।

এই সময় সাহাজি বলিল

ভিন্ন এক খবর শোনা যায়

দিল্লিকে দখলে আনতে নাদির শাহ তাহার সৈন্য হিন্দুকুশ পর্বতের ধার ঘেষিয়া আসিতেছে।

সুচতুর বুদ্ধির জন্য তাহার নাম আছে।দিল্লি দখল করিয়া ময়ূর সিংহাসনের প্রতিপালক হইবার তাহার সখ চিরন্তন।যুদ্ধে যাহারা তাঁর সম্মুখে আছে তাদেরকে কচু কাটা করিয়া সরাইয়া ফেলা তাহার একটি নেশা মাত্র।

নাদির শাহ তাহার বুদ্ধির দ্বারা গলার ওপর কিরুপ চোপ বসাইতে পারেন তা তাহার অজানা নয়। নাদির শাহের সম্পদের ওপর লোভ যেরূপ তীব্র সেইরূপ নারীর ওপর কু নজর।

দিল্লির ওপর কত বড় ঘনায়মান মেঘ ঘুরপাক খাইতেছে তাহা মহম্মদ শাহ জানেন না।

এক পাত্র বলিলেন

তাহা হইলে মারাঠা বাঁচিয়ে যাইবে।খবর পাক্কা এখনো হয় নাই কেন!খুব শিগগিরই খবর পাক্কা কর।আমাদিগের ভার কমাও।

তাহার আগে নাদির শাহ কিরুপ কার্য গ্রহন করেন তাহা জানা দুরূহ।এখন প্রস্তুতি নিয়ে রাখা বেশ উত্তম কার্য।কখন যুদ্ধ সংগঠিত হয় তাহা বলা যায় না।

সাহাজি বলিল

বেলা বাঈ সংবাদ আনিলে খবর পাক্কা হইবার সম্ভাবনা প্রবল হইবে।

সৈন্যদের প্রস্তুতি প্রযোজন।খুব শীঘ্র যুদ্ধ লাগিলেও লাগিতে পারে। ঝড়ের গতিতে সাহাজি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।শান্ত নিভৃত পরিবেশ ধীর গতিতে উত্তপ্ত হইতে থাকিল। শিবাজীর দুর্গ প্রাকার ক্রমশ কোলাহলে পূর্ণ হইতে থাকিল।

সাহাজি ঘোড়ার ওপর থেকে পশ্চাতে তাকিয়া দেখিলেন দূর্গ ক্রমশ সবুজাভ প্রান্তরে মিলাইয়া যাইতেছে।এইভাবে যাইতে যাইতে দক্ষিণের পথকে ক্রমশ দূর হইতে দূরে নিক্ষেপ করিয়া এক গভীর অরন্যের কিনারে ঘোড়াটি উপস্থিত হইল।

ঘোড়াটিকে জঙ্গলের কিয়ৎ ভেতরে প্রবেশ করাইয়া সাহাজি নিজের সাজসজ্জার খানিক পরিবর্তন করিল।দিল্লীর কোন এক বাসিন্দা যদি তাহাকে তখন দেখিত তাহলে চিনিতে পারিত ইহা সাহাবুদ্দিন ছাড়া আর কেহ নহে।দিল্লীর বাজারে যাহার আতরের গন্ধ মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

খান দুয়েক বাজরার রুটি খাইয়া সাহাবুদ্দিন ঘোড়ার ওপর উঠিয়া দিল্লীর দিকে ঘোড়া ছুটাইল।

প্রভাতের আলো তখনও বিশেষ ফুটে নাই বেলাতুন বিবির দরজার ওপর হালকা শব্দ হইল।আর কেও বলিল সাহাজি।

দরজা খুলিয়া গেল নিশব্দে সাহাবুদ্দিন প্রবেশ করিল।দিল্লীর কাক পক্ষীও তার টের পাইল না।

ছবি-সৌভিক ঘোষ

পরিচিতি:

জন্ম ১৪ জানুয়ারী, ১৯৯৫।বেড়ে ওঠা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আনন্দপুরে।
প্রথমে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ সংস্থায় শিক্ষা লাভ।পরবর্তী কালে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে স্নাতক।
বর্তমানে মেদিনীপুর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে পাঠরত।
স্কুলের দেওয়াল ম্যাগাজিনে গুচ্ছ কবিতা দিয়ে সাহিত্য জীবন শুরু।প্রথম গল্প প্রকাশ পায় ২০১৭ সালে।এরপর থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও ওয়েবে গল্প,কবিতা প্রকাশ পেয়ে চলেছে।
যেমন -কালি কলম ও ইজেল,পান্ডুলিপি,এবং সায়ক,প্রাঙ্গণ,শব্দসাঁকো,মুকুর,৯নং সাহিত্য পাড়া লেন,শহরতলীর ডায়েরী প্রভৃতি।
নাদির শাহের গুপ্তধন লেখকের প্রথম উপন্যাস।

শেয়ার করুনঃ