Note: Now you can download articles as PDF format
বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য 9564866684 এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
  • Novel

নাদির শাহের গুপ্তধন (পর্ব ২)

  • অনিমেষ দত্ত
  • Sept. 6, 2020
  • 54 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


সাম্প্রতিক কাল

(উত্তর চব্বিশ পরগনা)

সর্বাকর্ষক

জল আবহাওয়া সব সময় ভালো থাকলেই যে সব সমান তালে চলতে থাকবে তা তো হয় না।

কি বলছিস এসব।মানে কি?

মানে আমার মাথা সব সময় ঠান্ডা থাকে না।

দেখ প্রদীপ,আমি কি দেবানকে গাব্বু মামার সাথে দেখা করিয়ে দেব না বলেছি?

তা বলিসনি কিন্তু তুই খুব দেরী করাচ্ছিস।জানিস তো দেবান কেমন একরোখা।এত মাস পর এখানে এসেছে।হয় খুব চাপ নয়তো খুব দরকার।তাই বাড়ি এসেছে।

তা ঠিক।কাকু মারা যাবার পর তো কেমন একটা একরোখা হয়ে গিয়েছে।

কত কাজ করে জানিস তো একবার এখানে যাচ্ছে,আবার ওখানে যাচ্ছে।কাল দিল্লী তো পরশু লক্ষ্ণৌ।এত কাজের মাঝে এসেছে যেটাই বড় ব্যাপার।

নিজের বাড়িতে আসবেনা এটা কি হয়?

দেখ আবেশ,এখন সবাই নিজের বাড়ির কাছে আর আছে না।সবাই এখন দূরে দূরে থাকে।কলকাতা ছেড়ে বনগ্রামের মতো একটা জায়গায় তিন-চার মাসে একবার আসে।

তাও ঠিক।

কত কাজ কত ব্যস্ততা।শহরে কাজ করে,অনেক কাজ আর রাত হলে মদ খেয়ে পড়ে থাকে।

যতই মদ খাক,গাঁজা খাক কিন্তু গবেষণা তো করে ইতিহাস নিয়ে।

ওসব কথা ভাবিস না।ওকে তোর মামার সঙ্গে দেখা করিয়ে দে।দেবান তোকে অনেকবার বলেছে।এমনকি আমাকেও বলল।

দুদিনের মধ্যেই দেখা করিয়ে দেব বলেছি।ও কিছু কথা শোনার আগেই রেগে যায় আমার ওপর।

গাব্বু মামা তো নেই এখানে।সে এখন রাজস্থানে।বারাসাতের ওখানে কিছু পরিবারকে নিয়ে গিয়েছে আর কি।মামা ফিরে এলেই দেখা করিয়ে দেব।তবে হঠাৎ কি দরকার আমার মামাকে?

সারা ভারত ঘুরে বেড়ায়।কিন্তু ওর সাথে এত জরুরী কাজ।ট্রাভেল এজেন্সির রাজস্থান মেম্বারের সাথে ওর আবার কি দরকার ভেবে পাই না।

বিকেলের সময় পার্কের ধারে সময় হাঁটতে থাকে।

সময় অনেকটা নদীর মত।কখনও আস্তে আস্তে কখনো দ্রুত চলে।হাতে হাত রাখতে গিয়ে জড়িয়ে যায়।হসপিটালের ঘড়ির কাটা নাকি আস্তে চলে।অনেকে আবার বলে একটা জীবন ঘুরে আসতে চায়।

সেসব কথা দেবানের অতটা মনে হয়না।

অনেকটা সময় ওর হাতে আছে কিনা সেটা ও নিজেও জানেনা।অনেক কাজ রয়েছে।শেষ কই।

মদ খেয়ে,গাঁজা টেনে নিজের ওপর কন্ট্রোল রাখে কখনো কখনো।মদ ওকে খেতে পারেনি আজও।মদ কন্ট্রোল করে সব কিছু ভুলে থাকতে।ছোটবেলার বোনের মৃত্যু,ভাঙা প্রেমস্মৃতি,কিছু বছর আগে বাবার মৃত্যু আরো কত কি।একটা জীবন হাজারটা মরণ।এক চুমুক খেয়ে বিছানায় লম্বা হলেই সব কাজ বোতলের।

গবেষণার এত চাপ এখন আর নিতে পারে না।পথের খুব কাছে চলে এসেছে।এত বছরের একটা হারিয়ে যাওয়া রহস্য।মাঝে মাঝে ওর মাথার ভেতর যন্ত্রণায় ভরিয়ে দেয়।তখন যেন পাগল হয়ে যায়।

চুলটা তুই কাটবি কি কাটবি না? দিনদিন চুলগুলো মাথা ঢেকে নিচ্ছে।স্নান -খাওয়া বন্ধ করে খাতা নিয়ে বসে আছে।

তোরা সব শহুরে হয়ে গেছিস।কি বলছি যে তখন থেকে?

মা,এদিকের একটু কাজ বাকী আছে।কাজ শেষ করে আমি আসছি একটু পরে।তোমার সঙ্গে কথা বলে নেব।

ঠিক আছে তুই কাজ করে যা।কি যে কাজ বুঝি না এসব।

গজগজ করতে করতে দেবানের মা রান্না ঘরের দিকে চলে গেল।

টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা অনেকক্ষণ ভাইব্রেট হচ্ছে।একবার আড়চোখে দেবান সে দিকে তাকাল।শ্যামোন্ডির ফোন।

ফোনটা বন্ধ করে রেখেছিল দুদিন।আজ একটা জরুরি ফোন করার জন্য ফোনটা খুলেছিল তারপর বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছে এর মাঝেই শ্যামোন্ডির ফোন।

দেবেন এরকমই।যখন কাজের মধ্যে থাকে তখন সবকিছু বন্ধ থাকে।দরকার হলে এগিয়ে যায়। বিশেষ করে যখন গ্রামে আসে তখন সবকিছু থেকে একটু আলাদা থাকতে চায়।কিছুটা নিরিবিলি ঠান্ডা পেতে চাই।শহরে সব সময় সেটা হয়ে ওঠেনা।

তিনদিন পর চলে যেতে হবে গ্রাম থেকে।তার আগে যতটা সম্ভব কাজটা নিজের মতো করে গুছিয়ে নিচ্ছে।অনবরত নোট করে নিচ্ছে ডায়েরিতে।অনেকটা তথ্য যুক্ত করেছে আর কি কি চাই কোথায় কোথায় যেতে হবে তার লিস্ট তৈরী করছে।আট বছরের গবেষণা।

সে সব কথা দেবানের আজও মনে পড়ে।

সবেমাত্র ইতিহাসে স্নাতকোত্তর লাভ করে ইউনিভারসিটি থেকে একটা গবেষণাপত্রে কাজ করতে গিয়ে নজরে পড়ে এক বিজ্ঞাপনের।

সেখান থেকেই পরীক্ষা দিয়ে কলকাতার আর্কিওলজিক্যাল বিভাগে চাকরি করতে ঢুকে যায়।মা-ছেলের ছোট সংসার।বাবা নেই।বিয়েও করেনি।একা মা-কে গ্রামে রেখে কলকাতায় থাকার কথা ভাবতেই পারেনা।তখন বন্ধু প্রদীপ আর আবেশ অনেকটা সাহায্য করে।একরকম জোর করেই ওকে কলকাতা পাঠিয়ে দেয়।

পোষ্ট মোঘল নিয়ে কাজ করছে এতদিন।অনেকে বলে মোঘল এসেন্স।

হঠাৎ কাকতালীয় ভাবে একদিন এক কিউরিউ শপে একটা মোঘল আমলের কাঠের বাক্স হাতে পায়।

মোটা কাঠের ওপর খোদায় করা নকশা।যদিও পুরানো কাঠ অনেকটা কালো হয়ে গিয়েছে।তবে জেল্লা আজও রয়েছে।এটা দেখে বিষ্ময় জাগে উইপোকা এখনও হাত ধরেনি।

দেবান কিছু টাকা দিয়ে কাঠের বাক্সটা বাড়ি নিয়ে আসে।

বাড়ি বলতে মাথা গোঁজার একটা ছোট ফ্ল্যাট।চাকরি পাবার বেশ কিছু মাস পর কিনেছে।

সেখানেই বাক্সটা পরীক্ষা করে দেখে।বাক্সটা বিশেষ ভাবে আটকানো।মনে হয় কাঠের হুড়কো মতো কিছু দিয়ে ভেতর থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে বাক্সটাকে।গ্রামে গঞ্জে যেভাবে দরজা আটকানো হয় সেভাবে।বাড়ির দরজা ভেতর থেকে আটকানো যায় কিন্তু দশ বাই আট ইঞ্চি কাঠের বাক্স এটা কিভাবে ভেতর থেকে আটকানো হতে পারে!প্রথম দেখেই অবাক হয়েছিল।

বাক্স ভেতর থেকে আটকানো!

সারাদিন এটাই ভাবছিল।তারপর এও ভাবল কোন চাবি তালা কেস নই তো।

না তাও কি করে হবে।চাবি লাগানোর জায়গা কই?

আস্তে আস্তে বাক্সটা ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে দেবান।ম্যাগনিফাইন গ্লাস দিয়ে খুঁটিয়ে

লক্ষ্য করে।দেখে একটা চাবি রাখার মতো খাঁজ।মসৃন বাক্সের ওপর ডানদিকে রয়েছে।জায়গাটা একটু নীচু।

চাবি রাখার জায়গা?মনে মনে বলল দেবান।

ভাবতেই কেমন অবাক লাগে।এতদিন এত মোঘল আমলের কাজ করেছে এরকম কখনও দেখেনি।

ভালো করে দেখল কিছু অক্ষর বাক্সের ওপর খুব ছোট করে লেখা রয়েছে।উর্দু ভাষায় লেখাগুলো বেশ ঝকঝকে।পড়ে বুঝল এটা মোঘল আমলের অষ্টাদশ শতকের সময় বা তার পরের কোন এক সময়ের হবে।

লেখাটার বাংলা করলে কিছুটা এরকম দাঁড়ায়-

মহম্মদ শাহের নীতি বড় তীক্ষ্ণ নয়,

কার্ণালের যুদ্ধে তার হল পরাজয়।

তারপর অনেকগুলো লাইন আবছা হয়ে গেছে। কিছু পড়া যায়।

ধুলায় মেশে ধুলার সাঙাত….

শেষ লাইন বাংলায় এরকম-

গোপন চর বাহিনী গেল যে হারিয়ে।

কিন্তু চাবি কই আর তালাই বা কই!বুঝতে পারল না দেবান।তবে এটা বুঝল এ বাক্স পোস্ট মোঘল কিমবা তার আগের।

বাক্সটা পাওয়ার একদিন পরই বাড়ি চলে এসেছিল।যখনই কোনকিছুতে আটকে যায় তখনই নিজের বনগ্রামে চলে আসে।

সারাদিন রাত বাক্সটা নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে।

একদিন হঠাৎ কি ভেবে একটা পেনসিলের ছোট অংশ চাবি রাখার জায়গায় রাখতেই বাক্সটার সামনের ডালাটা নড়ে উঠল।দেবানের আর বুঝতে অসুবিধা হল না।এটা ওজনের খেলা।

মনে মনে বলল হয়তো এবার খোলা সম্ভব।

তারপর পেনসিলটা মনের মতো কমিয়ে দিয়ে বাক্সের খাঁজে বসাতে থাকল।এভাবে ছয়বারের চেষ্টায় বাক্সের ডালাটা খুলে গেল।

ভেতরে একটা মোটা ডায়েরী,চামড়ার বকলসের মাঝে আটকানো।

সেদিন সারা রাত ধরে ডায়েরিটা পড়েছে।বেশীরভাগ উর্দুতে লেখা।আরবি-ফার্সি আর হিন্দিতে মিলে মিশে একাকার।

ডায়েরি হাতে পাওয়ার পরদিনই কলকাতায় চলে আসে।ডায়েরির কথা কাওকে জানায় না একমাত্র শ্যামোন্ডি ছাড়া।ওকে বলতেই হয় সব কথা।বলা বা শোনার লোকজন সীমিত।তারওপর বিশ্বাস সবার ওপর আসে না।

যার ওপর আসে তাকে ছাড়া যায় না।

ডায়েরির সব অংশ যে বুঝে গিয়েছে তাও না।তবে অনেক হাতে আঁকা ছবি,নকশা,অঙ্ক,ম্যাপ সব মিলে মিশে আছে।

এসবের মাঝে হঠাৎ একদিন কলকাতায় আর্কিওলজিক্যাল বিভাগের এক সেমিনারে ওর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় দিল্লির এক বিখ্যাত ইতিহাসের প্রফেসর জে বি ব্র্যাডম্যানের সাথে।

তিনি মুঘল আমল সম্বন্ধে বিস্তর গবেষণা করেছেন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে।এখন এদেশে।এককালে তার লেখা একাধিক বই প্রকাশ পেয়েছে।

পঁয়ত্রিশ বছর আগে চাকরি ছেড়ে এখন কেবল গবেষণা করে যাচ্ছেন।

ইতিহাসের পাতায় যখন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হয়।কচুকাটা করে এক একটা মানুষকে কেটে ফেলা হয় তখন থেকেই ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী হয়েছেন ব্র্যাডম্যান।পরে ইতিহাস থেকে অনেকটাই সরে গিয়ে আজ পুরাতত্ত্ব বিভাগের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

সেমিনার শেষে সবার প্রশ্ন উত্তরের পর্ব চলছিল।

তখনই দেবান বলে

স্যার,মোঘল চরবক্স কি?

প্রফেসর একটু চুপ করে বললেন

What?নতুন শুনলাম।যা হোক বোল রেহে হো।কি বলতে চাও!

দেবান একটু ভয় পেয়ে বলে না মানে! আর কি।

এবার থেকে যা বলবে spelling ঠিক করে বলবে।

ব্যাপারটা যে এরকম হবে দেবান সেটা বুঝতে পারেনি।চুপ করে যায়।কথা আর এগোয় না।যদিও দেবানের মনে হল কিছু একটা লুকিয়ে যাচ্ছেন প্রফেসর ব্র্যাডম্যান।

আলোচনা শেষে সবাই যখন চলে যাচ্ছে তখন নিজে থেকেই প্রফেসর ডেকে নেন দেবানকে।

তারপর গম্ভীরভাবে হাতে একটা কাগজ দিয়ে বলেন

আজ বিকেলে দেখা কোরঅ আমার হোটেল মে।ঠিকানাটা লিখ দিয়া।হোটেলের রিসেপশন এ বলবে

My Name is Jageswar।আমার সাথে দেখা করতে চাও।

হঠাৎ মায়ের ডাকে চমক ভাঙল।

কি রে ডেকে গেলাম যে?

হুম যাচ্ছি বললাম তো।যাচ্ছি যাচ্ছি করে তো সন্ধ্যে হয়ে এল।

হুম।বল কি বলবে?

তুই বাড়ি এসেছিস এতদিন পর।প্রদীপ আর আবেশ কে একদিন বাড়িতে ডাক।অনেকদিন ভালো কিছু রান্না করা হয়নি।

প্রদীপ কে ডাকব।আবেশকে ডাকব না।

কেন আবেশ আর প্রদীপ দুজনেই সারাটা সময় আমার দরকারে এগিয়ে আসে।

তোমার দরকারটাই দরকার।আমার কাজ গুলো করার বেলা কোথা যায়।আবেশের মামার সাথে দেখা করব বলেছি তবুও দেখা করাচ্ছে না।

ও এই ব্যাপার।ওর মামা তো বাইরে।কাল ফিরবে।আমাকে তো গতকাল বলে গেল।

তোকে বলত কিন্তু তুই কাজে ব্যস্ত ছিলি তাই আমাকেই বলল।

ওহ এই ব্যাপার।ঠিক আছে ওদের আসতে বলব আজ।

সন্ধ্যার আলোবাতাস সব মনকে ছুঁয়ে যায়।ভালোবাসা যেমন আকর্ষণীয় তেমন ভালোবাসার মানুষগুলোও আকর্ষণ করে।কিছু বিখ্যাত মানুষ অন্যদের আকর্ষণ করে সর্বাকর্ষক হবার চেষ্টায় থাকে।তবে প্রতিটি ভালোবাসার মানুষ সব সময় আকর্ষণীয় তাই তারা সর্বাকর্ষক।

সকাল সকাল হাজির হয়ে গেল আবেশ তার গাব্বু মামাকে নিয়ে।

দেবান কোথায় কাকিমা?

ঐ তো ওর ঘরে আছে।ঘুমোচ্ছে মনে হয়।

এত বেলাতেও ঘুম!

না বাবা,কাল সারা রাত জেগে কি সব কাজ করছিল বোধহয় ভোর বেলা ঘুমিয়েছে।

তাহলে আর ডাকব না কাকিমা।গাব্বু মামাকে সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছি।অনেকদিন ধরে আমার ওপর রেগে আছে।

না না তুই যা ডেকে তোল ওকে।তোরা এসে ফিরে গেছিস শুনলে আরও রাগ করবে।

ঠিক আছে।দেখা করে আসি।

ঘরের মধ্যে ঢুকতে গিয়েই আবেশ দেখল দেবান বিছানার ওপর বসে আছে।ওদের দেখে হাসতে হাসতে বলল

তোদের গলা পেয়ে উঠে পড়লাম।

ভালো করেছিস।তবে রাতে ঘুমটা ভালো করে দে।নয়তো শরীর খারাপ করবে।

বাদ দে ওসব।মামা তুমি চেয়ারটার সামনে বস।

তা কেমন আছ বল?

গাব্বু মামা গম্ভীর হয়ে বলল

দেখতেই পাচ্ছ আই অ্যাম অলওয়েজ কুল কুল।তারপর হাসতে হাসতে বলল ভালো আছি।

তুমি কেমন আছো?কেমন চলছে গবেষণা?

ঐ আর কি।সারাদিন মিউজিয়াম ঘোরা পর্যবেক্ষণ করা,তথ্য নেওয়া এসব করেই চলে যায়।যে জন্য তোমায় ডেকেছি সেটা আগে বলি।

হ্যাঁ।আবেশ দুদিন আগেই ফোন করে বলল তুমি নাকি দেখা করতে চাও।

দেবান হঠাৎ বলে উঠল।মামা আমাকে দুদিনের জন্য রতনগড় আর বিকানীর নিয়ে যেতে পারবে?তোমার ওখানের সব কিছু জলবৎ তরলম।

সে নাই নিয়ে যাব।কিন্তু কেন?কবে যেতে চাও সেটা বল।

কাজ আছে। কিছু চেকিং করার।আমি কাল কলকাতা ফিরে যাব।তারপর দুদিন থেকে সেখান থেকে যাব ভেবেছি।

গাব্বু মামা কিছুক্ষণ ভাবল।তারপর পকেট থেকে একটা ডায়েরী বের করে কি সব দেখে নিল তারপর বলল

আচ্ছা তাই হবে।এর মাঝে কিছু দিন আবেশের সাথে কাটিয়ে নেব।এখন তেমন কাজ নেই দেখলাম।এ মাসের শেষ দিকে অনেক কাজ পড়ে যাবে তার আগে তোমার সাথে দুদিন ঘুরে আসা যাবে।

তুমি তাহলে হোটেল আর প্লেন এর টিকিট গুলো বুক করে নাও।

আর আজ দুপুরে দুজনে বাড়িতে খেয়ে যেও।প্রদীপও আসবে।

হ্যাঁ, আবেশ বলেছে আমাকে।কাল যখন বাড়ি থেকে তুমি ফিরলে তারপর আমি এলাম।তাই তোমার সাথে দেখা হয়নি।

রাতের দিকে ফোনটা অন করল দেবেন।তারপর একটা নম্বরে ফোন করল।

স্যার,তিনদিন পর বিকানীর আর রতনগড় যাচ্ছি।সব ব্যবস্থা পাকা করে নিয়েছি।একটা বিশ্বস্ত গাইড সঙ্গে নিচ্ছি।

ফোনের ওপার থেকে কি বলল তা শোনা গেল না।ফোনের স্পিকারের শব্দ একদম কমিয়ে রেখেছে।

দেবান বিশ্বাস করে বাতাসেরও কান আছে।

ফোনের এপার থেকে দেবান শুধু বলল তাহলে দেখা হচ্ছে জাগেশ্বর স্যার।

তারপর লাইনটা কেটে দিল।একবার ভাবল শ্যামোন্ডিকে ফোনটা করি।মুখের কোনায় মুচকি হাসিটা ঝলক দিয়ে উঠল।

তারপর ঝট করে ফোনটা সুইচ অফ করে দিল।

নিঝুম রাতে ঝিঁ ঝিঁ -র ডাক সব আক

পরিচিতি:

জন্ম ১৪ জানুয়ারী, ১৯৯৫। বেড়ে ওঠা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আনন্দপুরে।
প্রথমে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ সংস্থায় শিক্ষা লাভ। পরবর্তী কালে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে স্নাতক।
বর্তমানে মেদিনীপুর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে পাঠরত।
স্কুলের দেওয়াল ম্যাগাজিনে গুচ্ছ কবিতা দিয়ে সাহিত্য জীবন শুরু। প্রথম গল্প প্রকাশ পায় ২০১৭ সালে।এরপর থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও ওয়েবে গল্প,কবিতা প্রকাশ পেয়ে চলেছে।
যেমন - কালি কলম ও ইজেল, পান্ডুলিপি, সায়ক, প্রাঙ্গণ, শব্দসাঁকো, মুকুর, ৯নং সাহিত্য পাড়া লেন, শহরতলীর ডায়েরী প্রভৃতি।
নাদির শাহের গুপ্তধন লেখকের প্রথম উপন্যাস।

শেয়ার করুনঃ