Note: Now you can download articles as PDF format
  • Kobitaguchho

পরাণ কাঁদে গহীন গাঙে

  • মানিক বৈরাগী
  • June 29, 2020
  • 116 বার পড়া হয়েছে

Sorry! PDF is not available for this article!


বায়ুস

বেকার ভবঘুরে হতাশার বিষন্নতায় শ্রীহীন
খাদ্যের অভাবে কর্কশ ডাকও এখন কদর্য
শোনায়
জোটগতভাবে তারা আর করছে না মাতামাতি, দিচ্ছে না উড়াল
খুব বেকার কালো তিক্ষ্ণ ঠোঁট এখন ফ্যাকাসে
অলিগলি পথ-ঘাট মাঠ ডাস্টবিন ধুধু শূণ্য
প্রভাতে রবির আভাতে জানালার পাশে এসে ডাকাডাকি করেনা আমায়
তাদের জন্য পরাণ কাঁদে
ছুড়ে দেয়া রুটির টুকরো, ভাত ছালুন থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ
তাদের উপোস রেখে আমি কি খেতে পারি !
##
সারমেয়

সারারাত যে সারমেয়রা দলবেঁধে ঘেও ঘেও কোরাস করতো
আমাদের চিপাগলিতে তারা এখন নিরব।
যে সারমেয়গুলো দিনে ঝিমুনি দিতো বিকেলে লালাঝরা জিহবা ঝুলিয়ে
গলির এ মাথা থেকে অই মাথা টহল দিতো,তৃষ্ণা পেলে সদর দরজার পাশে
কূপে লেজ নাচিয়ে কুঁ কুঁ করতো
কেউ যেনো স্নানঘরে স্নান সেরে বাসি জলের আশায়।
এখন আসেনা বৈশ্বিক অভিমানে।
গভীর রাতে পাড়ায় বেগানা আগন্তুক দেখলেই
তাড়াদিতো সামরিক কুচকাওয়াজ ঢংয়ে
সেই সব পদশব্দ শুনিনা।
সকালে পঁচা-বাসি নাড়িভুঁড়ি কাঁটা হাড়গোড়ের জন্য অধির অপেক্ষা করতো
রন্ধনশালার পেছনের উঠানে।
কতো সপ্তাহ হয়ে গেলো তারা আসেনা,খাবারের আশায় গোঁত গোঁত করতো;
নাই একটিও নাই।
এই সব বেওয়ারিশ সারমেয়দের জন্য আমার পরাণ কাঁদে।
##
ধেনু

ধেনু ঘর থেকে আর বিলে যায় না।জাফর কতো আদর করে নিয়ে যেতে চায়
নলবিলা'র মাঠে,
গো ধরে থাকে, অশ্রুসজল চোখে শিঙ নাড়ে যাবেনা।
বাড়ির পাশের ক্রিকেট মাঠে বল গড়ায়না, পদচ্ছাপ পড়েনা দুরন্ত কিশোরের।
শিশিরভেজা দুধঘাস লকলকিয়ে হাসছে,
ধেনু সেখানেও যাবেনা। অথচ ধেনু দুধঘাস পেলে মাঠ ছাড়তে চাইতো না।
বিষণ্ন ধেনু রোদেপোড়া শুকনো খড় ও গাদায় শুয়ে স্মৃতির জাবর কাটে।
ধেনুর ঘরমুখো বিষণ্ন চোখ দেখে আমার খুব পরাণ কাঁদেবন।
##
শুষুক

কয়েক যুগ পরে জলকন্যারা বাপের বাড়ি নাইয়র আইছে। সেই খুশিতে তারা কতো
নাচানাচি করলো আমাদের উঠোনে। আমার নাতিনাতনি কতরকম জলকেলি করলো
কয়েকদিন।
আমি সকালে বিকালে তাদের হাসিঠাট্টা জলকেলি মুগ্ধ নয়নে
প্রাণভরে তাদের সাথে কতো কথা মস্করা করেছি,তাদের কতোদিনের জমানো কথা
খইফোটার মতো করে বলছে আর শুনছি।
বিদায় বেলায় কতো কান্নাকাটি করলো। আমিও বাষ্পীভূত হয়ে বিদায় বলেছিলাম।
মন বারবার অজানা আশংকায় কেঁপে কেঁপে উঠতো। চালাক "নর-বানরে"রা গুহায়
ঢুকলেও, কামুক বর্বর নরেরা শিকারের তাড়নায় জাহাজ ভাসালো জলে।
প্রাণের কন্যা নাতিনাতনিরা শোনেনি বারন।
বাপের বাড়ির আদর সম্ভাষণে খুশির উৎফুল্লতায় জলকেলি করতে করতে
ঘুরপথে শ্বশুর বাড়ি ফেরার কালে নর কামুকের নজর এড়াতে পারলো।
সমুদ্র শিকারী নিষাদ জাল পেতে দলবেঁধে প্রথমে অবরুদ্ধ করলো।
কামুক হাতে তাদের চুলের মুটি ধরে টানতে টানতে তুলে নিল বোটে, তারপর চরে এনে
কামুক উল্লাসে ফেটে পড়লো দলবদ্ধ ভাবে।
আমার জলকন্যারা বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তচিৎকার করলো, বধির উম্মাদ জল-জালিক
শুনলো না।
তারা তাদের কাম চরিতার্থ করে কোপাতে কোপাতে হত্যা করলো।
আমার শুষক কন্যাদের আর্তনাদ কোন "নর-বানর "শোনেনি।
কেউ বাঁচতে এগিয়ে আসেনি। তোদের উপর নেমে আসুক লানৎ ইন্দ্র-বরুণের।
আমার শুষুক কন্যার জন্য পরাণ কাঁদে।



পরিচিতি:

লেখক -কবি, নব্বুইয়ের দশকে নির্যাতিত ছাত্রনেতা প্রকাশিত গ্রন্থ কবিতা - তিনটি শিশুতোষ গল্প-দুটি সম্পাদক গরাণ-ছোট কাগজ কক্সবাজার বাংলাদেশ।
শেয়ার করুনঃ